📌 দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও চাকরির পথে প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নওগাঁর শাকিল হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিপ্রকল্পে নবম গ্রেডের সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে। সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের সহায়তায় এই সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়
দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও চাকরির পথে অগ্রসর হওয়ার লড়াইয়ে বিজয়ী হন নওগাঁর শাকিল হোসেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিপ্রকল্পে নবম গ্রেডের ‘সেকশন অফিসার’ পদে নিয়োগ পাওয়ার মাধ্যমে তিনি স্বপ্নের চাকরি পেয়েছেন। এই সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে এবং সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের সহায়তায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নবম গ্রেডের চাকরি পেলেন শাকিল হোসেন**: দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিপ্রকল্পে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পেয়েছেন নওগাঁর শাকিল হোসেন।
- 📌 **প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে নিয়োগ**: ঢাকার বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি।
- 📌 **সংগ্রামের গল্প**: শাকিলের পড়াশোনা ও চাকরির লড়াইয়ে ছোট ভাই সাব্বির ও বন্ধু গৌতমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- 📌 **সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের ভূমিকা**: নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম শাকিলের মেধা ও যোগ্যতা মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন।
- 📌 **সাত দিনে পরিবর্তন**: শাকিলের চাকরি পাওয়ার বিষয়টি মাত্র সাত দিনের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়।
📰 বিস্তারিত
দৃষ্টিহীনতা শাকিল হোসেনের পথের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে বারবার বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে নবম গ্রেডের ‘সেকশন অফিসার’ পদে চাকরি পেয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি।
নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শাকিলের সংগ্রাম শুরু হয়েছিল শৈশব থেকেই। তিনি মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদলগাছীর বালুভরা উচ্চবিদ্যালয় ও বদলগাছী সরকারি কলেজের পড়াশোনা শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে তাঁর ছোট ভাই সাব্বির ও বন্ধু গৌতম সহযোগিতা করেছেন। তারা নিয়মিত শ্রুতিলেখক হিসেবে শাকিলের পড়াশোনায় সহায়তা করেছেন।
পড়াশোনা শেষ করে শাকিলও অন্য তরুণদের মতো চাকরির সন্ধানে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে বারবার বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা তার। তিনি দাবি করেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির চেষ্টা ও দীর্ঘ সংগ্রামের কথা নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর কাছে তুলে ধরেন। পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিপ্রকল্পে নবম গ্রেডের ‘সেকশন অফিসার’ পদে তাঁর নিয়োগের ব্যবস্থা হয়।
"নবম গ্রেডের একটি চাকরি পাওয়া আমার কাছে কল্পনার চেয়েও বড় ব্যাপার। আমার মতো একজন মানুষের জন্য এটি অনেক বড় পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম আমার পাশে না দাঁড়ালে আজ আমার এই স্বপ্ন হয়তো বাস্তব হতো না। আমি তাঁদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।"
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল দায়িত্ব। শাকিলের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে চেয়েছি। তাই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা শুনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। মাত্র সাত দিনের মধ্যে একজন সংগ্রামী তরুণের জীবনে এমন পরিবর্তন দেখে আমি আনন্দিত।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (গুলশান), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ সদর উপজেলা (হরিহরপুর গ্রাম), বদলগাছী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাকিল হোসেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, সাব্বির, গৌতম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ সেপ্টেম্বর, নবম গ্রেড, ৫ (সদর) আসন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!