📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি যুক্ত করেছে। ১৯৬৯ সালের শিক্ষানীতির বিরোধিতায় সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ১৫ আগস্ট মারা যান। সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবি যুক্ত করা হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি যুক্ত করেছে। সংগ্রহশালার সংস্কার শেষে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি বাদ দিয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও আব্দুল মালেকের জীবদ্দশা ও মৃত্যুর পরের ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আব্দুল মালেকের মৃত্যুর ঘটনা সংগ্রহশালায় তুলে ধরা হয়েছে, যিনি ১৯৬৯ সালের শিক্ষানীতির বিরোধিতায় সংঘর্ষে নিহত হন।
- 📌 সংগ্রহশালায় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেছেন, ‘এটা ইতিহাসের প্রতি দায়’।
- 📌 ১৫ আগস্ট ১৯৬৯ তারিখে ২২ বছর বয়সী আব্দুল মালেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
- 📌 আব্দুল মালেক ছিলেন বগুড়ার মেধাবী ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন ১৯৬৬ সালে।
📰 বিস্তারিত
ডাকসুর সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের ছবির নিচে একটি ক্যাপশন রয়েছে। ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা সেমিনারে বক্তব্য দেওয়া শেষে ফেরার পথে বিরোধীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন’। সংগ্রহশালায় সংঘর্ষের শিকার ব্যক্তিদের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী সামষ্টিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাঁদের ইতিহাস সংগ্রহশালায় তুলে ধরা হয়েছে’।
১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ডাকসু একটি মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে। সভায় বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সামসুদ্দোহা। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। সভাকক্ষে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা হট্টগোল শুরু করে এবং ‘ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করো’ স্লোগান দিতে থাকেন। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা নিয়ে সভাকক্ষে ঢুকে পড়েন ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা। দৈনিক আজাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘর্ষের পর কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে আব্দুল মালেকের অবস্থা ছিল সবচেয়ে গুরুতর।
মোহাম্মদ হাননানের ‘লেখা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘর্ষে আব্দুল মালেক, আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ইদরিস আলী, ছাত্রলীগ নেতা নাসিরুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ গুরুতরভাবে আহত হন। সংঘর্ষে ঢাকা শহর জুড়ে গুন্ডাগিরির ঘটনা ঘটে। কলাভবনের ডিনের নেতৃত্বে শিক্ষকরা সংঘর্ষস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে ওঠে।
"এটা ইতিহাসের প্রতি দায়। যেসব ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী সামষ্টিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাঁদের ইতিহাস সংগ্রহশালায় তুলে ধরা হয়েছে।"
— ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল মালেক, এস এম ফরহাদ, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেখ মুজিবুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, সামসুদ্দোহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৬৬ (ভর্তি বছর), ২২ (বয়স), ১২ (আগস্ট), ১৫ (আগস্ট), ১৯৬৯ (সংঘর্ষের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!