📌 ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বুধবার অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযোগে কেরোসিন সরবরাহের নামে কীটনাশক ভেজাল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবে কাজ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো দুর্নীতির ঘটনা উঠে এসেছে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গোপন অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানটি পরিচালনা করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপ-সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের দল। সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কেরোসিন ভেজাল: মশা নিধনে ভেজাল কীটনাশকের নামে কেরোসিন সরবরাহের অভিযোগে দুদক অভিযান পরিচালনা করছে। ২০১১ ও ২০১৯ সালে উত্তর সিটি করপোরেশনে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের দায়ে ব্ল্যাকলিস্ট করা প্রতিষ্ঠান ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’র মালিক মিজানুর রহমান নতুন নাম ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
- 📌 ৪৮ কোটি টাকার চক্রান্ত: ডিএসসিসি থেকে তিনটি কার্যাদেশে ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় সঠিক ওষুধ দেখানো হলেও মাঠে কেরোসিন ছিটিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করা হচ্ছে।
- 📌 ঘুষ ও চাঁদাবাজি: মশক নিবারণী দফতরের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের নামে ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।
- 📌 রাজনৈতিক প্রভাবে কাজ ছিনিয়ে নেওয়া: বৈধভাবে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পরেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবে কাজ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
দুদকের অভিযান শুরু হয় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবৈধ চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নেওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মশক নিবারণী দফতরের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের বড় অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রভাবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে দুদক কর্মকর্তারা বিস্তারিত তদন্ত করছেন।
"অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে"
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী, যাত্রাবাড়ী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহেদী মুসা জেবিন (দুদক সহকারী পরিচালক), হাবিবুর রহমান (দুদক উপ-সহকারী পরিচালক), মিজানুর রহমান (প্রতিষ্ঠান মালিক), মো. আকতারুল ইসলাম (দুদক কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ সেপ্টেম্বর (অভিযান তারিখ), ৩টি কার্যাদেশ, ৪৮ কোটি টাকা (কীটনাশক সরবরাহ), ১০০ টাকা (সরকারী ফি), ১২০-২৫০ টাকা (গ্রাহকদের কাছ থেকে), ১ হাজার টাকা (ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!