📌 বাথরুম পরিচ্ছন্ন রাখতে দৃশ্যমান পরিষ্কারের পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত করাও জরুরি। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের বিশেষজ্ঞদের মতে, বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সহজেই বাসা বাঁধে। নিয়মিত ব্লিচিং দ্রবণ ব্যবহার, স্পঞ্জ পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত সামগ্রী সঠিকভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে বাথরুমকে রাখা সম্ভব সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর
বাথরুম পরিচ্ছন্ন রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ঘষাঘষি করেও অনেকেই জীবাণুমুক্ত করতে পারেন না। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের অণুজীববিজ্ঞানী ফিলিপ তিরনোর মতে, সব জীবাণুর মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষকে অসুস্থ করে। তবে বাথরুমের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে নরোভাইরাস, ই-কোলাই ও স্ট্যাফিলোকক্কাসের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সহজেই বংশবিস্তার করতে পারে। তাই দৃশ্যমান পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত করাও অত্যন্ত জরুরি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাথরুমের মেঝে ও ব্যবহৃত তলগুলো সপ্তাহে অন্তত একবার ১ গ্যালন পানিতে ১ কাপ ব্লিচ মিশিয়ে তৈরি দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে
- 📌 কমোডের ভেতরের অংশ স্ক্রাবার ও ডিটারজেন্ট দিয়ে ঘষে ব্লিচিং দ্রবণ ১০ মিনিট বসিয়ে রাখার পর ধুয়ে ফেলতে হবে
- 📌 শাওয়ারের পর্দা প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর পরিবর্তন করা উচিত
- 📌 টয়লেটের প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় ৩২ লাখ অণুজীব থাকতে পারে — তাই সব সময় কমোডের ঢাকনা নামিয়ে ফ্লাশ করতে হবে
- 📌 টুথব্রাশ সব সময় কভার দিয়ে ঢেকে টয়লেট থেকে দূরে শুকনো জায়গায় রাখতে হবে
- 📌 ব্যবহৃত ভেজা তোয়ালে বাথরুমে ঝুলিয়ে না রেখে শোয়ার ঘরে বা রোদযুক্ত স্থানে শুকাতে হবে
- 📌 ওষুধ, মেকআপ, পারফিউম, রেজর ও মোবাইল ফোন বাথরুমে না রাখাই শ্রেয়
📰 বিস্তারিত
সাধারণত ঘষাঘষি করে বাথরুম পরিষ্কার করলেই জীবাণুমুক্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দৃশ্যমান পরিচ্ছন্নতার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে অদৃশ্য অণুজীবের বিশাল এক জগৎ। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের অণুজীববিজ্ঞানী ফিলিপ তিরনো জানান, মানুষকে অসুস্থ করে এমন জীবাণুর সংখ্যা মোট জীবাণুর মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। তবে বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে ও উষ্ণ পরিবেশে নরোভাইরাস, ই-কোলাই ও স্ট্যাফিলোকক্কাসের মতো ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সহজেই বংশবিস্তার করতে পারে। তাই শুধু পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেললেই জীবাণুমুক্ত হয় না। নিয়মিত জীবাণুনাশক দ্রবণ ব্যবহার করা প্রয়োজন।
সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ডোনা ডুবার্গের গবেষণা অনুসারে, টয়লেটের প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় ৩২ লাখ অণুজীব থাকতে পারে। কমোডের ঢাকনা খোলা রেখে ফ্লাশ করলে মলমূত্রের জীবাণু বাতাসের স্প্রের মতো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে সব সময় কমোডের ঢাকনা নামিয়ে ফ্লাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাথরুম পরিষ্কারের জন্য একই স্পঞ্জ বারবার ব্যবহার করা উচিত নয়। পুরোনো স্পঞ্জে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে, যা পরিষ্কারের বদলে জীবাণু ছড়াতেই সাহায্য করে। এর পরিবর্তে একবার ব্যবহারযোগ্য স্পঞ্জ বা পুরোনো সুতি কাপড় ব্যবহার করা শ্রেয়।
বাথরুমের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার কারণে বেশ কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। টুথব্রাশ খোলামেলা স্থানে রাখলে তাতে ১০ কোটির বেশি ব্যাকটেরিয়া জমা হতে পারে। তাই টুথব্রাশ সব সময় কভার দিয়ে ঢেকে টয়লেট থেকে দূরে শুকনো স্থানে রাখতে হবে। ব্যবহৃত ভেজা তোয়ালে বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখলে তাতে ছত্রাক ও দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এগুলো শোয়ার ঘরে বা রোদযুক্ত স্থানে শুকানো উচিত। ওষুধ, ভিটামিন ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল বাথরুমের আর্দ্র বাতাসে দ্রুত কার্যক্ষমতা হারায়। তাই এগুলো বাথরুমে না রেখে শোয়ার ঘর বা রান্নাঘরের নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
"বাথরুম পরিষ্কার করার জন্য একই স্পঞ্জ বারবার ব্যবহার করবেন না। পুরোনো স্পঞ্জে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে, যা জীবাণু ছড়াতে সাহায্য করে। এর বদলে একবার ব্যবহারযোগ্য স্পঞ্জ বা পুরোনো সুতি কাপড় ব্যবহার করুন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার ও সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিলিপ তিরনো, ডোনা ডুবার্গ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ থেকে ২ শতাংশ, ৩২ লাখ, ১০ কোটি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!