📌 বিশ্ব শহর দিবস উপলক্ষে আইপিডির অনুষ্ঠানে নগর পরিকল্পনাবিদরা বাংলাদেশের শহরগুলোর উন্নয়ন মডেলের পরিবর্তন চেয়েছেন। তারা বলেছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণই নয়, মানুষের সামাজিক সংযোগ ও সুস্থ জীবনের জন্য পুকুর, উঠান ও খেলার মাঠ ফিরিয়ে আনা দরকার
বাংলাদেশের শহরগুলোকে শুধু ঘুমানোর জায়গা থেকে সুস্থ, নিরাপদ ও সামাজিকভাবে সংযুক্ত জীবনের কেন্দ্রে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। বিশ্ব শহর দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তারা বলেছেন, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর বা লন্ডন-নিউইয়র্কের মতো বিশ্ব শহর গড়ে তোলার চেষ্টা ছেড়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতায় নগর পরিকল্পনা করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইপিডি বলেছে, বাংলাদেশের শহরগুলোতে শিশুদের খেলার জায়গা, পুকুর ও উঠান হারিয়ে যাচ্ছে, যা সামাজিক সংযোগ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য বিপদজনক
- 📌 আদিল মুহাম্মদ খান (আইপিডি নির্বাহী পরিচালক) বলেছেন, উন্নয়ন মানে শুধু বহুতল ভবন নির্মাণ নয়, বরং মানুষের জন্য সুস্থ ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করা
- 📌 পুকুর-উঠান-পাড়াভিত্তিক নগরায়ণ ধারণা প্রস্তাবিত হয়েছে, যেখানে পুকুর হবে পরিবেশের ভারসাম্য ও পানি ব্যবস্থাপনার অংশ, উঠান হবে মানুষের মেলামেশার জায়গা
- 📌 ময়মনসিংহসহ মাঝারি শহরেও আবাসিক এলাকা শুধু ঘুমানোর জায়গা হয়ে পড়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগের প্রাণবন্ততা হারিয়ে ফেলেছে
- 📌 শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের সামাজিক দক্ষতা বিকাশের সুযোগও হ্রাস পাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের শহরগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণের সাথে সাথে শিশুদের খেলার জায়গা, পুকুর ও উঠান হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন মানুষের সামাজিক সংযোগকে দুর্বল করছে। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর অনুষ্ঠানে বলা হয়, ঐতিহ্যবাহী পাড়া-মহল্লা, পুকুর ও খেলার মাঠ একসময় দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এগুলো শুধু বসবাসের স্থান ছিল না, বরং পারস্পরিক পরিচয়, সহযোগিতা ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ভরাট ও বিচ্ছিন্ন আবাসনব্যবস্থার কারণে এসব সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
আদিল মুহাম্মদ খান (আইপিডি নির্বাহী পরিচালক) বলেন, ‘আমাদের নগরায়ণ দর্শন হতে হবে বাংলাদেশের মাটি, পানি, মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। উন্নয়ন মানে শুধু বহুতল ভবন নির্মাণ নয়; উন্নয়ন মানে মানুষের জন্য একটি সুস্থ ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করা।’ তিনি বলেন, শুধু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি বা বড় অবকাঠামো নির্মাণকেই উন্নয়ন বলা যাবে না। প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার, জনস্বাস্থ্য ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আইপিডি বলেছে, পরিকল্পনাহীন ও অতিরিক্ত বিচ্ছিন্ন আবাসনব্যবস্থা নগরের সামাজিক সংযোগ দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শ্রেণিভিত্তিক বিচ্ছিন্নতা, সীমিত জনপরিসর এবং বাইরের সমাজের সঙ্গে কম যোগাযোগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান কমে যাওয়ায় তাদের সামাজিক বিকাশের সুযোগও হ্রাস পাচ্ছে। তাদের জীবন ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল পর্দায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়লে দলগত কাজ, নেতৃত্ব ও সহযোগিতার মতো সামাজিক দক্ষতা বিকাশের সুযোগ কমে যায়।
আইপিডি ‘পুকুর–উঠান–পাড়াভিত্তিক নগরায়ণ’ ধারণা প্রস্তাব করেছে। এতে পুকুর ও জলাশয় হবে পরিবেশের ভারসাম্য ও পানি ব্যবস্থাপনার অংশ, উঠান ও উন্মুক্ত স্থান হবে মানুষের মেলামেশার ক্ষেত্র। পাড়া-মহল্লাভিত্তিক পরিকল্পনা স্থানীয় পরিচয়, নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রতিবেশী সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে। আইপিডি বলেছে, এটি অতীতের নগরব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান নয়, বরং ঐতিহ্যের ইতিবাচক উপাদানগুলো আধুনিক পরিকল্পনায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব।
মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (বিআইপির সভাপতি) বলেন, উন্নয়ন দর্শনের বদলে ব্যবসায়িক ও গোষ্ঠী স্বার্থ নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণে অর্থনৈতিক করিডরভিত্তিক উন্নয়নের পরামর্শ দেন। আইপিডি আরও বলেছে, নগরের সংকট মোকাবিলায় পুকুর, খাল ও জলাভূমির আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং এসবের ব্যবস্থাপনায় পাড়া-মহল্লার মানুষকে যুক্ত করতে হবে।
"আমাদের নগরায়ণ দর্শন হতে হবে বাংলাদেশের মাটি, পানি, মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। উন্নয়ন মানে শুধু বহুতল ভবন নির্মাণ নয়; উন্নয়ন মানে মানুষের জন্য একটি সুস্থ ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আদিল মুহাম্মদ খান (আইপিডি নির্বাহী পরিচালক), মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (বিআইপির সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ০ (সুনির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকলেও উল্লেখযোগ্য তথ্য: ১টি অনুষ্ঠান, ১টি ধারণা প্রস্তাব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!