📅 ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

থ্যালাসেমিয়া-রোগী আফরোজা সুলতানা: অসুস্থতা মানসিক শক্তি তৈরি করে, উদ্যোক্তা হওয়ার পথে নিয়ে যায় ব্লক-বাটিক শিল্প

থ্যালাসেমিয়া-রোগী আফরোজা সুলতানা: অসুস্থতা মানসিক শক্তি তৈরি করে, উদ্যোক্তা হওয়ার পথে নিয়ে যায় ব্লক-বাটিক শিল্প

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 ১৭ বছর বয়সে থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ার পর অসুস্থতার লড়াইয়ে মানসিকভাবে শক্ত হয়ে ওঠেন আফরোজা সুলতানা। চিকিৎসা ও রক্তদানের অভিজ্ঞতা তাকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে নিয়ে যায়। ব্লক-বাটিক শিল্পের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘যারীন’স ক্রিয়েশন

১৭ বছর বয়সে থ্যালাসেমিয়া রোগের শিকার হয়ে পড়লেও অসুস্থতার লড়াই মানসিকভাবে আফরোজা সুলতানা শিউলিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। চিকিৎসা ও রক্তদানের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত আগ্রহ তাকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে নিয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালিত ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’ পডকাস্টে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 ১৯৯৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার হলেই অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর আফরোজা সুলতানার হিমোগ্লোবিন নিচে নেমে যায়, তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়
  • 📌 থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষা সহজলভ্য না থাকায় কলকাতায় চিকিৎসা নেওয়া হয়
  • 📌 ২১ দিন পরপর রক্তদানের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু ব্লক-বাটিক শিল্প শেখার আগ্রহ জাগে
  • 📌 ব্লক-বাটিক শিল্প শেখার অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে ‘যারীন’স ক্রিয়েশনের স্বত্বাধিকারী হওয়ার পথ তৈরি করে
  • 📌 চিকিৎসা ও কেমো থেরাপির অভিজ্ঞতা তাকে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে প্রেরণা দেয়

📰 বিস্তারিত

‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’ পডকাস্টে আফরোজা সুলতানা শিউলি নিজের অসুস্থতার শুরু থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথের গল্প শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার হলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ নিচে নেমে গেছে। তখন তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। কিন্তু অসুস্থতার প্রকৃত কারণ তখনো বোঝা যায়নি।

চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এবং ভারতে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হতো এবং অনেক সময় ব্যথা সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যেতেন। বাংলাদেশে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষা সহজলভ্য না থাকায় কলকাতায় চিকিৎসা নেওয়ার পর ডাক্তাররা প্রথমে মস্তিষ্কের সমস্যা চেক করতেন। বিভিন্ন পরীক্ষা ও ওষুধের পর মাথাব্যথা কিছুটা কমলেও শরীরের দুর্বলতা কমেনি। দুই মাস পরপর রক্ত নিতে হতো।

পরে ঢাকায় একজন হেমাটোলজিস্টের পরামর্শে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষা দিলে থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। রিপোর্টে লেখা ছিল—বিটা থ্যালাসেমিয়া। তিনি বলেন, “আমি মাকে স্বাভাবিকভাবেই কথাটি বলেছিলাম, কিন্তু আমার ভাই রিপোর্টটা নিয়ে নেয়। সেদিন সারা রাত ঘুমাতে পারিনি।”

অসুস্থতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। হিমোগ্লোবিনের আয়ু সাধারণত ১২০ দিন, কিন্তু তার ক্ষেত্রে তা ছিল মাত্র ২১ দিন। নিয়মিত রক্তদানের ফলে চোখে ঝাপসা দেখাসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। তিনি বলেন, “আমি যখন কিছুই করতে পারছি না, তখন ব্লক-বাটিক শিখি। যুব উন্নয়ন থেকে এটা শিখতে চাই।” কিন্তু বাবা তাকে যেতে দিতে চাইতেন না। একদিন রাগ করে তিনি তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণও করেছিলেন।

ব্লক-বাটিক শেখার অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ তৈরি করে। বিয়ের পর প্রথম ঈদে শ্বশুরবাড়ির জন্য কুশন কভার ও সোফা ম্যাট তৈরি করেন। তিনি বলেন, “তখন পর্যন্ত আমি কাউকে একই ব্লকের মধ্যে দুই রঙের এমনভাবে কাজ করতে দেখিনি।”

"আমি যখন চিকিৎসকের কাছে যেতাম দেখতাম, দুই-তিন বছরের শিশুরাও কেমো নিতে এসেছে। তখন মনে হতো, আমি তো জীবনের ১৭ বছর দেখেছি। এই বাচ্চাগুলো তো মাত্র দুই-তিন বছর বয়সে এমন লড়াই করছে। এসব দেখতে দেখতে আমি অনেক শক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।"

চিকিৎসা ও কেমো থেরাপির অভিজ্ঞতা তাকে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, “ডাক্তারের কাছে যাওয়া, থেরাপি, ইনজেকশন, কেমো—অনেক কিছুই আমি একা করেছি। একদিন আলট্রাসনোগ্রাফির সময় একজন চিকিৎসক আরেকজনকে বলছিলেন, আমার ক্রনিক লিভার সিরোসিস হতে পারে। তখন আমি ঠিক করি, দেশে ফিরে আর বসে থাকব না। এবার কিছু একটা শুরু করব।”

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা; কলকাতা, ভারত
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আফরোজা সুলতানা শিউলি, মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৯৭ (রোগের শুরুর বছর), ৬ (হিমোগ্লোবিন পরিমাণ), ২১ (রক্তদানের সময়কাল দিন), ১২০ (সাধারণ হিমোগ্লোবিনের আয়ু দিন)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖