📌 বাংলাদেশের নদীবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দের ৭৯% টাকা ড্রেজিংয়ে খরচ হচ্ছে, কিন্তু কোথায় কতটা প্রয়োজন তা নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জাপানের সহযোগিতায় একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করছে যেখানে ড্রেজিংয়ের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ও পলি ব্যবস্থাপনার সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের নদীবন্দর ও নৌপথ উন্নয়নে বরাদ্দের ৭৯ শতাংশ টাকা ড্রেজিংয়ে ব্যয় হচ্ছে, কিন্তু কোথায় কতটা ড্রেজিং প্রয়োজন তা নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত একটি কৌশলপত্রে এই সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের নদীবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দের ৭৯ শতাংশ টাকা ড্রেজিংয়ে ব্যয় হচ্ছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সুফল পরিমাপ করা হয় না
- 📌 প্রতিবছর ৫০ কোটি থেকে ২৪০ কোটি টন পলি জমে, নৌপথ সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন
- 📌 ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ঘনমিটার ড্রেজিং পরিকল্পিত, কিন্তু তোলা পলি ব্যবস্থাপনার জন্য উপযুক্ত জায়গা নেই
- 📌 ড্রেজিংয়ের অর্থনৈতিক সুফল পরিমাপের জন্য নৌযান চলাচলের পরিসংখ্যান তৈরি করতে হবে
- 📌 বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতের পূর্ণাঙ্গ মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) নেই
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ১৯৯০-এর দশক থেকে নেওয়া প্রকল্পগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ব্যয়ের ৭৯ শতাংশ গেছে ড্রেজিং, ড্রেজার কেনা ও সংশ্লিষ্ট কাজে। তবে এই বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে কোথায় কত ড্রেজিং প্রয়োজন এবং এর অর্থনৈতিক সুফল কতটা, তা নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও জাপানের ওভারসিজ কোস্টাল এরিয়া ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (ওসিডিআই) কৌশলপত্রটি প্রণয়ন করছে। কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিবছর বাংলাদেশের নৌপথ ও বন্দর অববাহিকায় ৫০ কোটি থেকে ২৪০ কোটি টন পলি জমে। ফলে নৌপথ সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন। তবে শুধু পলি অপসারণ নয়, কোথায় কতটা ড্রেজিং করা হচ্ছে এবং এতে অর্থনীতিতে কী সুফল মিলছে, সেই হিসাব করা হচ্ছে না।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে নৌপথে রক্ষণাবেক্ষণমূলক ড্রেজিংয়ের পরিকল্পিত পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ঘনমিটার। এর মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে প্রায় ৮৩ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ড্রেজিংয়ে তোলা পলি কোথায় ফেলা হবে, সেটিও বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, পলি অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য উপযুক্ত জায়গা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। ফলে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি তোলা পলি কোথায় ও কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেটিও পরিকল্পনার অংশ হওয়া দরকার।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেছেন, ‘ড্রেজিংকে যদি নৌপথ উন্নয়নের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা হয়, তাহলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হবে, কিন্তু টেকসই সুফল পাওয়া যাবে না। কোথায় কত ড্রেজিং প্রয়োজন, নৌযান ও পণ্য চলাচল কতটা, তার ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ছাড়া ড্রেজিং প্রকল্প নেওয়া হলে তা একসময় শুধু অর্থ ব্যয়ের ধারাবাহিকতায় পরিণত হবে।’
"ড্রেজিংকে যদি নৌপথ উন্নয়নের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা হয়, তাহলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হবে, কিন্তু টেকসই সুফল পাওয়া যাবে না।"
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া বলেছেন, ‘জাতীয় বন্দর কৌশল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খসড়ার ওপর মতামত নেওয়া হচ্ছে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সভা করে মতামত পর্যালোচনার পর কৌশলপত্রটি পরিমার্জন করা হবে। বন্দরগুলোর উন্নয়নে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে ডেটাবেইস তৈরি জরুরি। বর্তমানে নদীবন্দরগুলোর অনেক কার্যক্রম ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রম আধুনিকায়নসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের নদীবন্দর ও নৌপথ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হাদিউজ্জামান (বুয়েট অধ্যাপক), মো. জাকারিয়া (নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৯ শতাংশ, ৫০-২৪০ কোটি টন পলি, ২ কোটি ঘনমিটার ড্রেজিং, ৮৩ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!