📌 ভারতে অবৈধ প্রবেশের কারণে কারাবরণ শেষে ৪৭ বাংলাদেশি নাগরিক বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন। ভারতের হরিদাসপুর-পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকের পরিবার নড়াইল, কিশোরগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা
বেনাপোল: ভারতের কারাবরণ শেষে ৪৭ বাংলাদেশি নাগরিক বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে প্রত্যাবাসিত হন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ভারতের হরিদাসপুর-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদেরকে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। এই আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ ও ১০২ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার এবং বাংলাদেশের পক্ষে বেনাপোল চেকপোস্টের ওসি, ৪৯ বিজিবির আইসিপি কোম্পানি কমান্ডারসহ গোয়েন্দা সংস্থা ও এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৭ বাংলাদেশি ভারতের তামিলনাড়ুর বিশেষ ক্যাম্প থেকে সফলভাবে প্রত্যাবাসিত হন।
- 📌 ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চেন্নাই বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বার্তা পাঠায়।
- 📌 প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে নড়াইল, কিশোরগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ১৫ জনেরও বেশি।
- 📌 ১০২ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ও ৪৯ বিজিবি কোম্পানি কমান্ডারসহ দুই দেশের কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
- 📌 প্রত্যাবাসিতদের ট্রাভেল পারমিট ও জাতীয়তা যাচাইয়ের নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়।
📰 বিস্তারিত
সূত্র জানায়, ফেরত আসা বাংলাদেশিরা তামিলনাড়ুর আত্তুর-সালেম ও তিরুচিরাপল্লি স্পেশাল ক্যাম্পে দীর্ঘদিন অবস্থান করছিলেন। তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়। চেন্নাই বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিকের স্বাক্ষরিত বার্তায় ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে রয়েছে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার দক্ষিণ লংকারচর এলাকার আসিকুল সিকদার, কিশোরগঞ্জের রাধাচর এলাকার রাহাতুল্লাহ, বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার মোহাম্মদ রাকিব আকন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শেখালিপুর এলাকার আবদুর রহিম, জামালপুরের জাকির মণ্ডল, বরগুনা জেলার নাসির গাজী, গাইবান্ধার উজ্জ্বল হোসাইন, নেত্রকোনার সাকিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাজল ও সাদ্দাম সহ আরও ৪২ জন।
বেনাপোল চেকপোস্টের ওসি সাইফুর রহমান জানান, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে প্রত্যাবাসিতদের বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠানো হবে। পরে আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ও রাইটস যশোরের প্রতিনিধিরা তাদের গ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি রেখা বিশ্বাষ বলেন, জীবিকার আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার পর তারা পুলিশের হাতে আটক হন। সাজা শেষে তাদের তামিলনাড়ুর বিশেষ ক্যাম্পে রাখা হয়। পরে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তাদের প্রত্যাবাসনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রত্যাবাসিতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা শেল্টার হোমে নিরাপদে থাকবেন।
"ভালো কাজ ও জীবিকার আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে তারা অবৈধপথে ভারতে যান। সেখানে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর স্থানীয় আদালতের মাধ্যমে কারাভোগ করেন। সাজা শেষে তাদের তামিলনাড়ুর বিভিন্ন বিশেষ ক্যাম্প ও হোমে রাখা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেনাপোল চেকপোস্ট, হরিদাসপুর-পেট্রাপোল সীমান্ত
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুর রহমান (ওসি, বেনাপোল), রাজেশ ভৌমিক (চেন্নাই উপ-হাইকমিশন), রেখা বিশ্বাষ (বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭ জন প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি, ১০২ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ, ৪৯ বিজিবি কোম্পানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!