📌 ১৯৭১ সালের চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি সেনাদের প্রতিরোধ ও বিদ্রোহের গোপন পরিকল্পনা নিয়ে লেখক মুহাম্মদ লুৎফুল হক তার গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাস প্রতিরোধ, ব্রিগেডিয়ার মজুমদার ও মেজর জিয়ার গোপন যোগাযোগ এবং ২১ মার্চের সেনাপ্রধান জেনারেল হামিদের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে আলোচিত হয়েছে
১৯৭১ সালের চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি সেনাদের প্রতিরোধ ও বিদ্রোহের গোপন পরিকল্পনা নিয়ে লেখক মুহাম্মদ লুৎফুল হক তার গ্রন্থ ‘১৯৭১: চট্টগ্রাম বিদ্রোহ ও ব্রিগেডিয়ার মজুমদার’-এ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থে বাঙালি সেনাদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ, সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাস প্রতিরোধের ঘটনা এবং বিদ্রোহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাস প্রতিরোধ: ৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা সোয়াত জাহাজে ছিল প্রায় ৯ হাজার টন অস্ত্র ও গোলাবারুদ। বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্দেশে অস্ত্র খালাস করতে অস্বীকার করেন। পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক লে. জেনারেল টিক্কা খান ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারকে ফোন করে গালমন্দ করেন এবং বলেন, একজন সুবেদারই যথেষ্ট কাজটি করতে পারবেন।
- 📌 ব্রিগেডিয়ার মজুমদার ও শেখ মুজিবুর রহমানের গোপন যোগাযোগ: ব্রিগেডিয়ার এম আর মজুমদার ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে বিদ্রোহের পরিকল্পনা নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও কর্নেল (অব.) ওসমানীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
- 📌 চট্টগ্রামে বিদ্রোহের পরিকল্পনা: ১৭ মার্চ মেজর জিয়া, ক্যাপ্টেন রফিক ও লে. কর্নেল চৌধুরির নেতৃত্বে পরিকল্পনা করা হয় ঝটিকা আক্রমণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, নৌঘাঁটি, নৌবন্দর, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও রেডিও স্টেশন দখল করার।
- 📌 জেনারেল হামিদের সন্দেহজনক গতিবিধি: ২১ মার্চ চট্টগ্রামে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল হামিদের সফর ও সেনানিবাসে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের সময় মেজর জিয়া তার সন্দেহজনক গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
📰 বিস্তারিত
১৯৭১ সালের চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি সেনাদের প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাস প্রতিরোধ। কারচি থেকে প্রায় ৯ হাজার টন অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে আসা এই জাহাজটি ৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরের ১৭ নম্বর জেটিতে নোঙর করে। তখন পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তাল ছিল। বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্দেশে অস্ত্র খালাস করতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনায় পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক লে. জেনারেল টিক্কা খান ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারকে ফোন করে গালমন্দ করেন এবং বলেন, একজন সুবেদারই যথেষ্ট কাজটি করতে পারবেন।
গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে, ব্রিগেডিয়ার এম আর মজুমদার ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম। তিনি ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে বিদ্রোহের পরিকল্পনা নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও কর্নেল (অব.) ওসমানীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান চরিত্র ছিলেন মেজর জিয়া, ক্যাপ্টেন রফিক ও লে. কর্নেল চৌধুরি। ১৭ মার্চেই তাঁরা পরিকল্পনা করেন ঝটিকা আক্রমণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, নৌঘাঁটি, নৌবন্দর, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও রেডিও স্টেশন দখল করার।
২১ মার্চ চট্টগ্রামে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল হামিদের সফর ও সেনানিবাসে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের সময় মেজর জিয়া তার সন্দেহজনক গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এই ঘটনাগুলো লেখক মুহাম্মদ লুৎফুল হক তার গ্রন্থে রণাঙ্গনে থেকে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থের পরিধি ছোট হলেও (মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠা), এর আধেয় ও বয়ান খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
"পাকিস্তানের নতুন সামরিক আইন প্রশাসক লে. জেনারেল টিক্কা খান ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে ফোন করেন এবং সোয়াত খালি করতে সাহায্য না করার জন্য গালমন্দ করেন। তিনি বলেন, কাজটি সম্পন্ন করার জন্য একজন সুবেদারই যথেষ্ট।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর (১৭ নম্বর জেটি), চট্টগ্রাম সেনানিবাস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ লুৎফুল হক, ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদার, মেজর জিয়া, ক্যাপ্টেন রফিক, লে. কর্নেল চৌধুরি, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল হামিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৬ পৃষ্ঠা (গ্রন্থ), ৯ হাজার টন (অস্ত্র ও গোলাবারুদ), ৩ মার্চ (সোয়াত জাহাজের নোঙর), ১৭ নম্বর জেটি (বন্দর), পৃষ্ঠা ৩৩ (টিক্কা খানের ফোনকল), ২১ মার্চ (জেনারেল হামিদের সফর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!