📌 বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে গেছে ৭৯তম থেকে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অগ্রগতি থাকলেও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে ব্যাপক পতন ঘটেছে। নারী প্রতিনিধিত্বের স্কোর সর্বনিম্নে নেমে এসেছে ২.৪ শতাংশে
বিশ্বের অন্যতম বড় পতন ঘটেছে বাংলাদেশে নারী-পুরুষ বৈষম্যের ক্ষেত্রে। বৈশ্বিক লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সূচকে এক বছরে বাংলাদেশ ৫৫ ধাপ পিছিয়ে গেছে। ১৪৫টি দেশের মধ্যে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ৭৯তম, যেখানে ২০২৫ সালে এটি ছিল ২৪তম। সামগ্রিক স্কোরও কমেছে ৬.২ শতাংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৫ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৯তমে নেমে এসেছে, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ২৪তম
- 📌 ৬.২ শতাংশ কমেছে সামগ্রিক স্কোর, যা বিশ্বের অন্যতম বড় পতন
- 📌 শিক্ষায় ৯৬.১ শতাংশ স্কোর, কিন্তু উচ্চশিক্ষায় এখনো ব্যবধান রয়েছে
- 📌 মাত্র ৩৮.৪১ শতাংশ নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ, পুরুষের তুলনায় অর্ধেকের কম
- 📌 ৬.১৬ শতাংশ নারী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপক পদে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক
- 📌 ২.৪ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে, সর্বনিম্ন স্কোর
- 📌 ৩৯ শতাংশ মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার, যা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি
📰 বিস্তারিত
বৈশ্বিক লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রতিবেদন ২০২৬ বাংলাদেশের অবনমনকে বিশ্বের অন্যতম বড় পতন বলে উল্লেখ করেছে। এই সূচক চারটি মূল ক্ষেত্র বিবেচনা করে তৈরি করা হয়: রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে ব্যাপক পতন ঘটেছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৯৬.১ শতাংশ, যা ২০০৬ সালের তুলনায় ৯.৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় পূর্ণ সমতা অর্জন করা হয়েছে, তবে উচ্চশিক্ষায় এখনো ব্যবধান রয়েছে। স্বাস্থ্য সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৯৬, যা আগের বছরের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নারীদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত আয়ু পুরুষদের তুলনায় কম।
অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক। এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৪১.৯ শতাংশ, যা ১৪৫টি দেশের মধ্যে ১৪২তম অবস্থানে রেখেছে। নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ৩৮.৪১ শতাংশ, যা পুরুষের তুলনায় অর্ধেকের কম। নারীদের বার্ষিক আয়ও পুরুষের তুলনায় প্রায় তিন গুণ কম। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে নারী মাত্র ৬.১৬ শতাংশ, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান খারাপ। এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় থেকে নেমে ১২তম হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নারীরা মাত্র ২.৪ শতাংশ আসন পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকারকে অসম ও প্রজননস্বাধীনতা সীমিত বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
"এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা এগিয়ে থাকলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নারী-পুরুষ (বৈষম্য সূচক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ ধাপ পিছিয়ে, ৭৯তম অবস্থান, ৬.২ শতাংশ কমেছে, ৯৬.১ শতাংশ শিক্ষা স্কোর, ৩৮.৪১ শতাংশ নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ, ২.৪ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!