📌 মরক্কোর জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেড) ২০১১ সালের রাজনৈতিক সংস্কারের সুফল ভোগ করে দশ বছর শাসন করলেও ২০২১ সালে নাটকীয়ভাবে ১১২টি আসন হারিয়ে ১৩টিতে সীমাবদ্ধ হয়। পার্টির নেতা আবদেলিলাহ বেনকিরানে ফিরে আসার পর পিজেডের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে
মরক্কোর জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেড) ২০১১ সালের রাজনৈতিক সংস্কারের পর থেকে দশ বছর ধরে দেশের প্রধান রাজনৈতিক লাভবানদের মধ্যে অন্যতম ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হয়ে ১২৫টি আসন থেকে ১৩টিতে সীমাবদ্ধ হয়। এই পার্টি ২০১১ সালের নভেম্বর নির্বাচনে ৩৯৫টি আসনের মধ্যে ১০৭টি জিতে সরকার গঠন করে। পার্টির নেতা আবদেলিলাহ বেনকিরানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মরক্কোর ২০১১ সালের সংবিধান সংস্কার রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, কিন্তু রাজতন্ত্রের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে। রাজা প্রধানমন্ত্রীকে মনোনীত করেন এবং কাউন্সিল অফ মিনিস্টার্সের সভাপতিত্ব করেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় নীতির মূল দিক নির্ধারণ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১১ সালের নির্বাচনে পিজেড ৩৯৫টি আসনের মধ্যে ১০৭টি জিতে সরকার গঠন করে, কিন্তু ২০২১ সালে ১১২টি আসন হারিয়ে মাত্র ১৩টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়
- 📌 ২০১৬ সালের নির্বাচনে পিজেড ১২৫টি আসন পায়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন এবং ২০১৭ সালের মার্চে রাজা মোহাম্মদ সিক্স তাকে পদচ্যুত করে সাদেদ্দিন ওথমানিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন
- 📌 পিজেডের ২০২৬ সালের কর্মসূচিতে ৪৬৭টি মাপকাঠি রয়েছে, যা পরিচয় ও পরিবার, রাজনৈতিক সংস্কার, জনসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক নীতির পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে বিস্তৃত
- 📌 পিজেডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং জনপ্রিয়তা পার্টির পুনরুত্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করছে, কিন্তু পার্টির সমর্থন পুনরুদ্ধার করতে এখনো অনেক কাজ করতে হবে
- 📌 পিজেডের ২০২১ সালের পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ও সংগঠনগত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এবং অপরিচিত কিছু শক্তি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করে
📰 বিস্তারিত
২০১১ সালের রাজনৈতিক সংস্কারের পর মরক্কোর জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেড) দশ বছর ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতায় ছিল। ২০১১ সালের নভেম্বর নির্বাচনে পিজেড ৩৯৫টি আসনের মধ্যে ১০৭টি জিতে সরকার গঠন করে এবং পার্টির নেতা আবদেলিলাহ বেনকিরানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মরক্কোর ২০১১ সালের সংবিধান সংস্কার রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, কিন্তু রাজতন্ত্রের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে। রাজা প্রধানমন্ত্রীকে মনোনীত করেন এবং কাউন্সিল অফ মিনিস্টার্সের সভাপতিত্ব করেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় নীতির মূল দিক নির্ধারণ করা হয়।
২০১৬ সালের নির্বাচনে পিজেড ১২৫টি আসন পায়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন। ২০১৭ সালের মার্চে রাজা মোহাম্মদ সিক্স তাকে পদচ্যুত করে সাদেদ্দিন ওথমানিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। পিজেড সরকারে থেকে ২০২১ সালের নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হয়, যেখানে তারা ১২৫টি আসন থেকে মাত্র ১৩টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়। এই পরাজয়ের পর পিজেডের নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন উঠে এবং পার্টির পুনরুত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
পিজেডের ২০২৬ সালের কর্মসূচিতে ৪৬৭টি মাপকাঠি রয়েছে, যা পরিচয় ও পরিবার, রাজনৈতিক সংস্কার, জনসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক নীতির পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে বিস্তৃত। পার্টির কর্মসূচিতে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, দ্বন্দ্বের সুবিধা ও অবৈধ সম্পদ সংগ্রহের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, এবং জনসেবার উন্নতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পার্টির কর্মসূচিতে বাসস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্য, পানি ও শক্তি স্বায়ত্তশাসনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।
পিজেডের কর্মসূচি প্রণয়নের সময় পার্টির কর্মী সাদ আল-সাবাহি বলেন, “এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা বিভিন্ন খাতে এবং মরক্কো জনগণের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, জনশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন — এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধতাগুলি পার্টি ও নির্বাচকদের মধ্যে চুক্তির ভিত্তি গঠন করেছে। আমরা এই প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ করার জন্য নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করবো।”
২০২১ সালের পরাজয়ের পর পিজেড নিজেদের সংগঠনগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তারা অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধানে বিশেষ ও নিয়মিত কংগ্রেসের মাধ্যমে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে পার্টির পুনরুজ্জীবন ঘটেছে বলে দাবি করেছে। পার্টির কর্মী সাদ আল-সাবাহি বলেন, “পার্টি নিজের সংকটের সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিল বিশেষ ও নিয়মিত কংগ্রেসের মাধ্যমে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে। পার্টি নিজের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সংগঠনগত সংস্কার এবং যোগাযোগের মাধ্যমে পুনরায় সংগঠিত করেছে।”
"এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা বিভিন্ন খাতে এবং মরক্কো জনগণের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, জনশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন — এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধতাগুলি পার্টি ও নির্বাচকদের মধ্যে চুক্তির ভিত্তি গঠন করেছে। আমরা এই প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ করার জন্য নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করবো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মরক্কো (কাসাব্লাঙ্কা-সেটাত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদেলিলাহ বেনকিরানে, সাদ আল-সাবাহি, সাদেদ্দিন ওথমানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৭টি আসন (২০১১), ৩৯৫টি আসন (মোট), ১২৫টি আসন (২০১৬), ১৩টি আসন (২০২১), ১১২টি আসন হারানো, ৪৬৭টি মাপকাঠি (পিজেডের কর্মসূচি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!