📌 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবি পূরণে সরকারকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিরোধী নেতারা দেশের অব্যবস্থাপনা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন
ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবি পূরণ না হলে সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। রোববার বিকেলে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবি পূরণে সরকারকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা
- 📌 আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু, রাজধানীতে জনসমাবেশ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হবে
- 📌 সরকার গঠনের ছয় মাসেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ
- 📌 দেশে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি, কৃষকদের সার না পাওয়া ও জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ
- 📌 ভারত সরকারকে দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ
📰 বিস্তারিত
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
ব্রিফিংয়ে নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। সরকারের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে, কৃষকরা সার পাচ্ছেন না এবং জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে জানান তারা।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
"সংবিধান সংস্কার কিংবা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যেন ‘এদিক-সেদিক উঁকিঝুঁকি’ না করে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে সরকার ধাবিত হলে এর পরিণতি ভালো হবে না—এটি তাদের স্পষ্ট বার্তা। দেশবাসীকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এতে রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোড, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শফিকুর রহমান এমপি, নাহিদ ইসলাম এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ সেপ্টেম্বর, ১১ দল, ২৩ আগস্ট, ২৯ মিন্টো রোড, ৫ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!