📌 ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে অভিশংসন চায় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আরাগচিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে এবং পারমাণবিক চুক্তি থেকে ইরানের প্রত্যাহারের আহ্বান দিয়েছে
ইরানের রাজনৈতিক মঞ্চে উদারপন্থী ও কট্টরপন্থীদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই তীব্রতর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি তুলেছে কট্টরপন্থীরা। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আরাগচিকেও লক্ষ্য করে অভিশংসনের প্রস্তাব দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ‘পায়দারি ফ্রন্ট’ প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি তুলেছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আরাগচিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে।
- 📌 তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার শর্ত হিসেবে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি করেছে।
- 📌 কট্টরপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে ইরানের প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
- 📌 গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
- 📌 ইরানের বড় শহরগুলোর চত্বরে ২০০ দিন ধরে রাতে সমাবেশ করছে কট্টরপন্থীদের সমর্থকরা, যারা আলোচনার পক্ষে উদারপন্থীদের তীব্রভাবে বিরোধিতা করছে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের রাজনৈতিক মঞ্চে উদারপন্থী ও কট্টরপন্থীদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই তীব্রতর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির আলোচনাবিরোধী কট্টরপন্থীরা। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে ইরানকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
‘পায়দারি ফ্রন্ট’ নামে পরিচিত এই কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ইরানের পার্লামেন্ট ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে লক্ষ্য করে তাদের এই দাবি তুলেছে। তারা দাবি করেছে, ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু হবে না। পায়দারি ফ্রন্টের ঘনিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য আমির হোসেন সাবেতি বলেছেন, ‘ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে শত্রু সরে আসেনি। তারা আবার অতর্কিত হামলা চালানোর উপযুক্ত সময়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ইরান এবং আরব দেশগুলোর অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই অবস্থায় ইরানের উদারপন্থীরা দ্রুত সংঘাতের অবসান চায়, কিন্তু কট্টরপন্থীরা বিশ্বাস করে যে, শুধু শক্তির ভাষাই যুক্তরাষ্ট্র বোঝে।
কট্টরপন্থীদের স্লোগান হলো, ‘আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়—আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চাই’ এবং ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তেহরানে ফেরার সময়ও কট্টরপন্থীরা বিক্ষোভ করেছিল। ওই অধিবেশনে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের নিন্দা জানান এবং কূটনীতির সুফল তুলে ধরেন। কট্টরপন্থীরা এই বিক্ষোভকে তাদের ‘আলোচনাবিরোধী’ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
"ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে শত্রু সরে আসেনি। তারা আবার অতর্কিত হামলা চালানোর উপযুক্ত সময়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান (তেহরান, হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আরাগচি, আমির হোসেন সাবেতি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ দিন (সমাবেশ), ২৮ ফেব্রুয়ারি (যুদ্ধ শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!