📌 ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার দু’জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে এই অভিযান চলছে। সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের কিছু অংশ পুরোপুরি সেনাদের দখলে রয়েছে এবং বাড়িঘর ধ্বংসের মাধ্যমে বাসিন্দাদের বিতাড়িত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে এই অভিযানকে আদর্শগত লক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার বন্দুকধারীর গুলিতে দু’জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেই ঘটনার পরই হেবরনে সেনাবাহিনী তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করছে। স্বাধীন সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল আল-জাজিরাকে বলেছেন, হেবরন এখন ‘ভুতুড়ে শহরে’ পরিণত হয়েছে। কারণ, সেনাবাহিনী পুরো পাড়াগুলো তছনছ করে দিচ্ছে এবং বাসিন্দাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত শুক্রবার হেবরনে বন্দুকধারীর গুলিতে দু’জন ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং দু’জন ফিলিস্তিনি সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হন
- 📌 সেনাবাহিনী সন্দেহভাজন হামলাকারীদের বাসা এবং তল্লাশির স্থান ধ্বংস করে বাসিন্দাদের বিতাড়িত করেছে
- 📌 আল-জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেছেন, সামরিক অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে
- 📌 ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ ঘোষণা করেছেন, বাড়িঘর ধ্বংসের নির্দেশ তিনি নিজেই দিয়েছেন
- 📌 হেবরন শহর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
📰 বিস্তারিত
স্বাধীন সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল আল-জাজিরাকে বলেছেন, হামলায় সন্দেহভাজন দু’জন ফিলিস্তিনি যে পাড়ায় বাস করতেন, সেই পুরো এলাকাটি সেনাবাহিনী তছনছ করে দিয়েছে। পরিবারগুলোকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাদের বাড়িতে ‘এক্স’ চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে, তল্লাশির স্থানেও বাড়িঘর ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাথানিয়েল আরও বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে সেনাবাহিনী নিজেরাই জানে না, এখানে তারা কী করছে। আমরা এখানে মূলত সেনাদের দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখছি।’
আল-জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেছেন, হেবরনে সামরিক অভিযানের সঙ্গে রাজনীতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির হেবরন শহরে অবৈধভাবে বসবাস করেন এবং বসতিবিষয়ক মন্ত্রীও হেবরনের আরেক বসতি স্থাপনকারী। এই হামলার পর তারা প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন এবং নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে অবস্থান আরও মজবুত করতে চেয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচও অবৈধ বসতি স্থাপনকারী হলেও তিনি হেবরনের বাসিন্দা নন। তিনি বলেছেন, বাড়িঘর ধ্বংসের নির্দেশ তিনি নিজেই দিয়েছেন এবং এই অভিযান আদর্শগত লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে। সেই লক্ষ্য হলো হেবরন দখল করা।
হেবরন শহর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দিক থেকে উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শহরের ভেতরে বসতি স্থাপনকারীরা আছেন এবং এখন সেনাবাহিনী বিভিন্ন পাড়ার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। তারা ঘোষণা দিচ্ছেন, এই এলাকাগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে এই লড়াইয়ের পরিসর আরও বাড়ছে এবং আদর্শগত বিভাজন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
"মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনী নিজেরাই জানে না, এখানে তারা কী করছে। আমরা এখানে মূলত সেনাদের দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখছি।"
"হামলায় সন্দেহভাজন দু’জন ফিলিস্তিনি যে পাড়ায় বাস করতেন, সেই পুরো এলাকাটি সেনাবাহিনী তছনছ করে দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হেবরন, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যাসপার নাথানিয়েল, নূর ওদেহ, ইতামার বেন-গভির, বেজালেল স্মোতরিচ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত, ২ জন ফিলিস্তিনি সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!