📌 অ্যাজোস্পারমিয়া (শুক্রাণু না থাকা) থাকলেও বাবা হতে পারেন। অবস্ট্রাকটিভ ও নন-অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়ার মধ্যে পার্থক্য ও চিকিৎসা পদ্ধতি (আইভিএফ, ইকসি) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ঢাকা ফার্টিলিটি সেন্টারের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী। সাফল্যের হার ২৫-৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে
অ্যাজোস্পারমিয়া (অর্থাৎ বীর্য পরীক্ষায় কোনো শুক্রাণু না পাওয়া) থাকলেও বাবা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা ফার্টিলিটি সেন্টারের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী বলেছেন, এই অবস্থায়ও চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব। তবে অ্যাজোস্পারমিয়া দুই ধরনের — অবস্ট্রাকটিভ ও নন-অবস্ট্রাকটিভ — এবং প্রত্যেকের জন্য আলাদা চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়াতে অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি হলেও বীর্যে পৌঁছানোর পথে বাধা থাকলে পিইএসএ/টিইএসএ পদ্ধতিতে শুক্রাণু সংগ্রহ করা যায়।
- 📌 নন-অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়াতে অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি না হওয়ায় আইভিএফ বা ইকসি পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
- 📌 ইকসি পদ্ধতিতে ১০-১২ দিন ইনজেকশন দিয়ে স্ত্রীর ডিম্বাণু পরিপক্ব করা হয়, তারপর মাইক্রো ম্যানিপুলেটর যন্ত্রের মাধ্যমে শুক্রাণু ডিম্বাণুতে প্রবেশ করানো হয়।
- 📌 সাফল্যের হার সাধারণত ২৫-৩০ শতাংশের বেশি নয়, তবে স্ত্রীর বয়স কম হলে ২-৩ বার ট্রান্সফার করার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
- 📌 অ্যাজোস্পারমিয়াতে কোনো ওষুধ শুক্রাণু তৈরি করতে পারে না — শুধুমাত্র ইকসি বা আইভিএফ পদ্ধতি কার্যকর।
📰 বিস্তারিত
অ্যাজোস্পারমিয়া হলো পুরুষ বন্ধ্যত্বের একটি প্রধান কারণ। এই অবস্থায় বীর্য পরীক্ষায় কোনো শুক্রাণু পাওয়া যায় না। তবে এই অবস্থায়ও বাবা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী বলেন, অ্যাজোস্পারমিয়া দুই ধরনের — অবস্ট্রাকটিভ এবং নন-অবস্ট্রাকটিভ। অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়ায় অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি হলেও বীর্যে পৌঁছানোর পথে বাধা থাকলে পিইএসএ (Percutaneous Epididymal Sperm Aspiration) বা টিইএসএ (Testicular Sperm Extraction) পদ্ধতিতে শুক্রাণু সংগ্রহ করা যায়। এই শুক্রাণুগুলো আইভিএফ (In Vitro Fertilization) বা ইকসি (Intracytoplasmic Sperm Injection) পদ্ধতিতে ব্যবহার করে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, নন-অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়ায় অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি হয় না বা তৈরি হলেও পরিণত শুক্রাণু তৈরি হয় না। এই ক্ষেত্রে আইভিএফ বা ইকসি পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, ইকসিতে স্বামীর সুস্থ পরিণত শুক্রাণুর প্রয়োজন হয়। অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, ইকসি পদ্ধতিতে প্রথমে ১০-১২ দিন ইনজেকশন দিয়ে স্ত্রীর ডিম্বাণু পরিপক্ব করা হয়। তারপর স্ত্রীকেও অচেতন করে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। একইভাবে পিইএসএ বা টিইএসএ পদ্ধতিতে অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়। এরপর মাইক্রো ম্যানিপুলেটর যন্ত্রের সাহায্যে শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। কিছুদিন পর এ থেকে ভ্রূণ তৈরি হয়, যা পরবর্তীকালে স্ত্রীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
অধ্যাপক সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, অ্যাজোস্পারমিয়ার ক্ষেত্রে সাফল্যের হার সাধারণত ২৫-৩০ শতাংশের বেশি নয়। তবে স্ত্রীর বয়স কম হলে আর ২-৩ বার ট্রান্সফার করার মতো ভ্রূণ পাওয়া গেলে সাফল্যের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তিনি বলেন, অ্যাজোস্পারমিয়া থাকলেও হতাশায় না ভুগে একজন অভিজ্ঞ বন্ধ্যত্ববিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
"অ্যাজোস্পারমিয়া থাকলেও বাবা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়ায় পিইএসএ/টিইএসএ পদ্ধতিতে শুক্রাণু সংগ্রহ করা যায়। নন-অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়ায় ইকসি বা আইভিএফ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। তবে সাফল্যের হার ২৫-৫০ শতাংশের মধ্যে থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী (চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা ফার্টিলিটি সেন্টার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- ১০-১২ দিন (ডিম্বাণু পরিপক্বকরণের জন্য ইনজেকশন)
- ২৫-৩০ শতাংশ (সাধারণ সাফল্যের হার)
- ২-৩ বার (ট্রান্সফার করার সম্ভাবনা)
- ৫০ শতাংশ (সর্বোচ্চ সাফল্যের হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!