📌 আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠকে তরুণ আলেমরা সম্পত্তি হস্তান্তর বিল-২০২৬-এর শরয়ি জটিলতা তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের দাবি জানান। তারা দাতা ও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুসলিম আইনের হেবা ও ওসিয়ত বিধানকে ক্ষতিগ্রস্ত না করার আহ্বান জানান
বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ নিয়ে আলোচনার জন্য আজ বুধবার সকাল ৯টায় সচিবালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে অংশ নেন একদল তরুণ আলেম। বৈঠকের পর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলেমরা আইনটির প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শরয়ি জটিলতাগুলো তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা কমিটি গঠনের দাবি জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সম্পত্তি হস্তান্তর বিল-২০২৬ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেন তরুণ আলেমদের দল। বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সচিবালয়ের আইনমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বুধবার সকাল ৯টায়।
- 📌 আলেমরা আইনটির শরয়ি জটিলতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিলটি হেবা, ওসিয়ত ও মিরাসের শরয়ি বিধানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- 📌 দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তর করেও ভোগাধিকার মৃত্যুর পর কার্যকর করার ব্যবস্থা প্রচলিত হেবার শরয়ি কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি করতে পারে।
- 📌 ওসিয়ত ও মিরাসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলেমরা দাবি করেন, উত্তরাধিকারীদের ইচ্ছাকৃত বঞ্চনা রোধের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
- 📌 আলেমরা শীর্ষ মুফতি ও ফকিহদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তারা বলেন, বিলটি পুনর্বিবেচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
- 📌 বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, জাতীয় উলামা মশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের মহাসচিব মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, বাংলাদেশ ফিকহ একাডেমির মহাপরিচালক মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী এবং মোহাম্মদপুর মোহাম্মদী হোমস জামে মসজিদের খতিব মুফতি আদনান মাসউদ প্রমুখ।
📰 বিস্তারিত
বৈঠকে আলেমরা আইনমন্ত্রীকে জানান, বিলটির উদ্দেশ্য হলো পিতা-মাতা, প্রবীণ ব্যক্তি ও দাতাদের জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে তারা বলেন, বিলটি মুসলিম নাগরিকদের সম্পত্তি হস্তান্তর, হেবা, ওসিয়ত ও মিরাসের মতো বিষয়গুলো কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় সম্ভাব্য শরয়ি জটিলতা রয়েছে।
তারা আইনমন্ত্রীকে জানান, দাতার জীবদ্দশায় মালিকানা হস্তান্তর করেও ভোগাধিকার মৃত্যুর পর কার্যকর করার ব্যবস্থা প্রচলিত হেবার শরয়ি কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি করতে পারে। আবার এর প্রয়োগ যদি ওসিয়তের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, তাহলে ওয়ারিসের জন্য ওসিয়ত এবং নির্ধারিত মিরাসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আলেমরা আরও বলেন, বিলটির অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো উত্তরাধিকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই তারা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন। বৈঠকে তারা দেশের শীর্ষ মুফতি, ফকিহ, ইসলামি আইন গবেষক ও আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তাদের মতে, এ কমিটির মাধ্যমে বিলটি পুনর্বিবেচনা করে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে প্রবীণ ও দাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মুসলিম নাগরিকদের হেবা, ওসিয়ত ও মিরাসের শরয়ি বিধানও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
"আইনটির অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো উত্তরাধিকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সচিবালয়ের আইনমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আসাদুজ্জামান (আইনমন্ত্রী), মাওলানা আফসার মাহমুদ, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, মুফতি আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মুফতি আদনান মাসউদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯.০০ টা (বৈঠকের সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!