📌 বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগের ১৫ মিনিটের ঘটনাবলী তদন্তকারীদের কাছে অজানা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে তার শেষ রাতের গতিপথের অনেক তথ্য উঠে এসেছে, কিন্তু মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। নৌ পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগের ১৫ মিনিটের ঘটনাবলী তদন্তকারীদের কাছে এখনো অজানা। রাত ১টা ২০ মিনিটে টঙ্গীর মাজার বস্তির একটি মাঠ থেকে বেরিয়ে আসা পুলিশের টহল দলের সাথে তার শেষ দেখা ছিল। এর ১৫ মিনিট পর, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তার মায়ের ফোনে আসে একটি অজানা বার্তা। কিন্তু তখন তার অবস্থান বা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য ছিল না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মৃত্যুরহস্য: সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে তাহসিফের শেষ ৭ ঘণ্টার গতিপথের অনেক তথ্য উঠে এসেছে, কিন্তু মৃত্যুর আগের ১৫ মিনিটের ঘটনা এখনো অজানা
- 📌 মরদেহ উদ্ধার: ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়
- 📌 গ্রেপ্তার: বন্ধুস্থানীয় দীপ ও তাহসিফের পরিচিত তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
- 📌 তদন্তকারীদের সন্দেহ: পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা দুর্ঘটনা — মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
- 📌 জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা: দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফ মাদক কেনাবেচার আখড়ায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে হেরোইন সেবন করেছিলেন
📰 বিস্তারিত
তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাবলী নিয়ে নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ‘রিমান্ডে আসামিরা যে বক্তব্যগুলো দিয়েছে, তার কোন অংশ কতটুকু সঠিক, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সময় যেহেতু আছে, তাই অবশিষ্ট কাজগুলো করে দেখি, কী ফলাফল পাওয়া যায়।’
তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহে বেশ কিছু অজানা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে তাহসিফ ও ওই তরুণীকে নিয়ে তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি বারে যান। বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে স্যাড মিউজিক বাজাতে বলেন। এরপর তিনজনই মদ্যপান করেন। রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ ও তরুণীর মধ্যে কথাবার্তা চলতে থাকে। একপর্যায়ে তাহসিফ তরুণীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় কিছু খাব। আমি হেরোইন খাব।’
রাত ১২টার দিকে বার থেকে বের হয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে তরুণীকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় পৌঁছে দেন। দীপও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গী মাজার বস্তি-সংলগ্ন একটি মাঠের উদ্দেশে রওনা হন। দীপের দাবি, সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাহসিফ নিজেই। বস্তির কাছে মোটরসাইকেল রেখে তাঁরা মাঠের দিকে যান। সেখানে স্থানীয় মাদকসেবী ও কারবারিরা উপস্থিত ছিলেন। তাহসিফ উচ্চ স্বরে হেরোইন চান এবং যত টাকা লাগে দিতে রাজি হন। পরে হেরোইন কিনে সেবন করেন। দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, বারে মদ্যপানের পর হেরোইন সেবনে তাহসিফ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
এরপরই আসে পুলিশের টহল দল। দীপের ভাষ্য, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান। দীপও দৌড় দিতে শুরু করেন। কিন্তু তাহসিফের অবস্থা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। নৌ পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার জন্য আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।
"রিমান্ডে আসামিরা যে বক্তব্যগুলো দিয়েছে, তার কোন অংশ কতটুকু সঠিক, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সময় যেহেতু আছে, তাই অবশিষ্ট কাজগুলো করে দেখি, কী ফলাফল পাওয়া যায়।"
"তাহসিফকে কেন হত্যা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ—এর কোনোটি হত্যার কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (টঙ্গী, উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর, তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কে এম তাহসিফ সাউরি, আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ, তাহসিফের মা, কে এম এনায়েতুল করিম (বাবা), আব্দুল্লাহ আল মামুন (নৌ পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ মিনিট (অজানা সময়), ১টা ২০ মিনিট (পুলিশের টহল দলের দেখা), ১টা ৩৫ মিনিট (মায়ের ফোনে বার্তা), ২৮ অক্টোবর (মরদেহ উদ্ধার), ২৭ অক্টোবর (ঘটনার তারিখ), ১০টা ১৮ মিনিট (বারে যাওয়া), ১৮ নম্বর সেক্টর (উত্তরা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!