📌 বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু দীপ জানান, মদ্যপান ও হেরোইন সেবনের পর পুলিশের ধাওয়ায় তাহসিফ পানিতে পড়ে মারা যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও মোবাইল বিশ্লেষণে হত্যাকাণ্ড নয়, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন কে এম তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য তদন্তের নতুন রেখা এসেছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। দীপের বিবরণ অনুযায়ী, মদ্যপান ও হেরোইন সেবনের পর পুলিশের ধাওয়ায় তাহসিফ পানিতে পড়ে মারা যান। ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে উত্তরার একটি বারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মদ্যপান ও মাদক সেবনের পর পুলিশের ধাওয়ায় পানিতে পড়ে মারা যান বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন তাহসিফ।
- 📌 টঙ্গী বাজার বস্তি-সংলগ্ন মাঠে হেরোইন কিনে সেবন করছিলেন তাহসিফ, যখন পুলিশের টহল দল উপস্থিত হয়।
- 📌 দীপের বক্তব্য: পুলিশের উপস্থিতিতে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান, তাহসিফের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি।
- 📌 মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন দীপ, কিন্তু তাহসিফকে পানিতে পড়তে দেখেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
- 📌 প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড নয়, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের নেস্ট বারে ক্যাপ্টেন তাহসিফ, তার প্রেমিকা জারিকা তাসনিম দিশা ও দীপ তিনজন যান। দীপের বিবরণে জানা যায়, দিশা আগে ইয়াবা সেবন ও অন্য যুবকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে তাহসিফ জানতে পারেন। এ নিয়ে মন খারাপ থাকায় সেদিন দিশাকে নিয়ে বারে যান তিনি। বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে বিষণ্ন সংগীত বাজাতে বলেন। রাত ১২টার দিকে বারে মদ্যপানের পর তাহসিফ দিশার সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। তাহসিফ দিশাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় কিছু খাব। আমি হেরোইন খাব।’
রাত ১২টার দিকে বার থেকে বের হয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে দিশাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় পৌঁছে দেন। দীপও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। পরে দুজন টঙ্গী বাজার বস্তি-সংলগ্ন একটি মাঠের উদ্দেশে রওনা হন। মাঠে গিয়ে তাহসিফ উচ্চস্বরে হেরোইন চেয়ে বলেন, ‘যত টাকা লাগে তিনি দেবেন’। মাদক কারবারিরা হেরোইন দিলে তাহসিফ সেবন করেন। মাদক সেবনের পর তাহসিফের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পুলিশের টহল দল আসার পর মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান। দীপও দৌড়ে নদীর পাড়ের দিকে চলে যান।
দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই থেকে তিন মিনিট পর পুলিশ তাকে ঘিরে ধরলে তিনি নিজেকে তাহসিফের বন্ধু বলে পরিচয় দেন। পুলিশ তাকে মোহাম্মদপুরের বাসায় যেতে বললে তিনি বস্তির সরু রাস্তা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যান। পরে তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে তিনি দাবি করেছেন, তাহসিফকে পানিতে পড়তে দেখেননি।
"তাহসিফ মাদক সেবন করতে এসেছেন, তাই মাদক না নিয়ে চলে যাবেন না বলে ধারণা করেছিলাম। ফোন বন্ধ পাওয়ার কারণও মনে হয়েছিল তার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে।"
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, দীপের বক্তব্য যাচাই করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও মোবাইল ফোন বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড নয়, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাহসিফ পানিতে পড়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর বারে, টঙ্গী বাজার বস্তি-সংলগ্ন মাঠ, মোহাম্মদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যাপ্টেন কে এম তাহসিফ, আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ, জারিকা তাসনিম দিশা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর, ১০:১৮ টা, ১৮ নম্বর সেক্টর, ১২ টা, ২৯ নম্বর পিলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!