📌 সিলেটের একটি মাদ্রাসার মুহতামিম ফয়জুল হক আদালতে স্বীকার করেছেন দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, আরও অনেক শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে এবং স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে
সিলেটের একটি মাদ্রাসার মুহতামিম ফয়জুল হক আদালতে স্বীকার করেছেন দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনার পেছনে আরও অনেক শিশুর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের তরঙ্গ উঠেছে এবং মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসার মুহতামিম ফয়জুল হক আদালতে স্বীকার করেছেন ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা।
- 📌 পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনার পেছনে আরও অনেক শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। তাদের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
- 📌 নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা মামলা করে ফয়জুল হককে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।
- 📌 মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে এবং শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
- 📌 শিশুদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি রাতে এক থেকে দুজন শিক্ষার্থীকে মুহতামিমের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো এবং তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করা হতো।
📰 বিস্তারিত
সিলেটের শাহপরান থানার পুলিশ গত বুধবার মাদ্রাসার মুহতামিম ফয়জুল হককে আটক করে। তার বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। পরে নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ফয়জুল হককে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
ফয়জুল হকের বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মাদ্রাসা তালাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গেছেন। তবে শুধু ওই দুই শিশু নয়, মাদ্রাসাটির আরও অনেক শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা জানান, কিছু দিন আগে মাদ্রাসার আট বছর বয়সী এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির অভিভাবককে ডেকে এনে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে বলে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর বিষয়গুলো সামনে আসে। ওই শিশুর বাবা জানান, মাদ্রাসা বন্ধ হওয়ার পর তার ছেলে আর সেখানে যেতে চাইছিল না। অনেক জিজ্ঞাসা করলেও সে প্রথমে কিছু বলেনি। একপর্যায়ে মাদ্রাসায় তার সঙ্গে কী হয়েছে তা জানায়। এরপর কয়েকজন অভিভাবক মিলে মাদ্রাসায় গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন আরও কয়েকজন শিশু একই ধরনের নির্যাতনের কথা জানায়।
শিশুদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি রাতে এক থেকে দুজন শিক্ষার্থীকে মুহতামিমের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করা হতো। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও শিশুদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মাদ্রাসাটি আর চালাতে দেওয়া হবে না।
"আমরা শিশুদেরকে ভয় দেখিয়ে তাদেরকে মুহতামিমের কক্ষে নিয়ে যেতাম। না গেলে মারধর করা হতো এবং কক্ষে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করা হতো।" — নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট সদর উপজেলা, জৈন্তাপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহতামিম ফয়জুল হক, শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুজিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থী, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!