📌 ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার থেকে পড়ে যাওয়া একজন মানুষের ছবি ‘দ্য ফলিং ম্যান’ হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত হয়ে ওঠে। ছবির মানুষের পরিচয় নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি তার পতনই হয়ে দাঁড়ায় সেই দিনের অসহায়তা ও মানবিক দুর্বলতার প্রতীক
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের আকাশে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য উপস্থিত হয়। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানতে আসা দুটি ছিনতাই করা বিমানের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ে শত শত মানুষ। সেই ভয়াবহ দিনের মধ্যে একটি ছবি আজও মানুষকে থমকে দেয় — ‘দ্য ফলিং ম্যান’। ছবিতে দেখা যায় একজন মানুষ আকাশ থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন, দুই হাত শরীরের পাশে, একটি পা সামান্য বাঁকানো। সাদা পোশাক বাতাসে উড়ছে, পায়ে কালো জুতা। আশ্চর্যজনকভাবে ছবিতে তাঁকে আতঙ্কিত নয়, বরং স্থির ও প্রায় শান্ত দেখা যায়!
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী রিচার্ড ড্রু ২০০ মিলিমিটার লেন্স দিয়ে ছবিটি তুলেছিলেন, যখন টাওয়ার থেকে মানুষ নিচে পড়ছিলেন
- 📌 ছবির মানুষের পরিচয় নিয়ে বিতর্কের পরিকল্পনা হলেও জোনাথন ব্রাইলি ও নরবার্তো হার্নান্দেজ নাম দুটি সম্ভাব্য শনাক্তকরণে উঠে আসে
- 📌 নরবার্তো হার্নান্দেজের পরিবার জানায়, সেদিন তিনি কমলা টি-শার্ট পরেননি, যা ছবির পরবর্তী ফ্রেমে দেখা যায়
- 📌 জোনাথন ব্রাইলির ভাই জুতার মাধ্যমে তাঁকে শনাক্ত করেছিলেন, কিন্তু পোশাকের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি
- 📌 ছবিটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল মানুষের পতনের দৃশ্য প্রকাশ বন্ধ করে দেয়
📰 বিস্তারিত
১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটের কিছু পর রিচার্ড ড্রু টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপে পড়ে যাওয়া মানুষদের ছবি তুলতে শুরু করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ওই যে, আরেকজন!’ — এমন চিৎকার শুনলেই তাঁর ক্যামেরা আকাশে উঠে যেত। সেই ধারাবাহিক ছবির একটি ফ্রেমই পরে বিশ্ববিখ্যাত হয়ে ওঠে। পরদিন ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এ ছবিটি প্রকাশিত হয়, কিন্তু খুব দ্রুত ছবিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, এটি একজন মৃত মানুষের মর্যাদা ও পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের প্রতি নির্মম আচরণ।
কানাডার সাংবাদিক পিটার চেনি ছবিটির মানুষটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি ‘Windows on the World’-এর কর্মীদের তালিকা খুঁজতে থাকেন। প্রথমে নরবার্তো হার্নান্দেজ নামটি সম্ভাব্য হিসেবে উঠে আসে, কিন্তু তাঁর পরিবার জানায়, সেদিন তিনি নীল চেক শার্ট ও নীল জিনস পরেছিলেন। অথচ ছবির পরবর্তী ফ্রেমে তাঁর সাদা পোশাকের নিচে একটি উজ্জ্বল কমলা পোশাক দেখা যায়। এখানেই আসে আরেকটি সম্ভাব্য নাম — জোনাথন ব্রাইলি। তিনি ছিলেন ‘Windows on the World’-এর কর্মী, লম্বা, কৃষ্ণাঙ্গ, গোঁফ-দাড়ি ছিল। তাঁর ভাই জানান, তিনি প্রায়ই কমলা টি-শার্ট পরতেন।
জোনাথনের মরদেহ পরে উদ্ধার হয়েছিল। তাঁর ভাই জুতার মাধ্যমে তাঁকে শনাক্ত করেছিলেন, কিন্তু পোশাকের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাহলে কি জোনাথন ব্রাইলিই সেই ‘Falling Man’? নিশ্চিতভাবে কেউ জানে না। ছবিটির সবচেয়ে গভীর অর্থ এই যে, এটি শুধু একজন অজ্ঞাত মানুষের পতন নয় — এটি সেই দিনের অসহায়তা, আতঙ্ক এবং মানুষের শেষ মুহূর্তের অজানা সিদ্ধান্তের প্রতীক।
"এই ছবি আমাদের শুধু একজন অজ্ঞাত মানুষের পতন দেখায় না; দেখায় সেই দিনের অসহায়ত্ব, আতঙ্ক এবং মানুষের শেষ মুহূর্তের অজানা সিদ্ধান্ত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, টুইন টাওয়ার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিচার্ড ড্রু, পিটার চেনি, জোনাথন ব্রাইলি, নরবার্তো হার্নান্দেজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১, ৯টা ৪১ মিনিট, ২০০ মিলিমিটার লেন্স, ৪৬টি প্রতিষ্ঠাতা দেশ, ৩৪টি পর্যবেক্ষক দেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!