📌 চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদের হত্যাকাণ্ড মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ১২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। মামলায় জড়িত মো. আজাদ আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ঘটনায় জাহেদের সঙ্গে থাকা ওয়াহিদও আহত হন
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পিচ্চি জাহিদের হত্যাকাণ্ড মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে ১২ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত মো. আজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ আসামি গ্রেফতার: সাতকানিয়া হত্যাকাণ্ড মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ১২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে মো. আজাদ আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
- 📌 হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত: ৩০ আগস্ট রাত ১০টায় সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুল আলমকে (৩৩) গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে পথরোধ করে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদ (২৫) আহত হন।
- 📌 ঘটনার কারণ: সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে জাহেদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে সশস্ত্র একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ ও লোহার রড দিয়ে জাহেদের ওপর হামলা চালায়।
- 📌 পুলিশের অভিযান: ঢাকায় আত্মগোপনকারী আসামিদের শনাক্ত করে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১টায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মোট গ্রেফতার ১২ আসামির মধ্যে ৬ জন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থেকে গ্রেফতার হন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, গত ৩০ আগস্ট রাত ১০টায় সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুল আলমকে হত্যা করা হয়। ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদ আহত হন। পুলিশের তথ্যমতে, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে জাহেদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন রাত ৮টায় পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহেদকে মারধর করে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত ১০টায় জাহেদ ওয়াহিদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। সশস্ত্র একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে জাহেদের ওপর হামলা চালায়। তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
মামলায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে পাহাড়তলি থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ঢাকায় আত্মগোপনকারী আসামিদের শনাক্ত করে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১টায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ১২ আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
"আমি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছি। ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে আমার স্বীকারোক্তি পুলিশের তদন্তে সহায়তা করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতকানিয়া উপজেলা, চট্টগ্রাম; ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহেদুল আলম (৩৩), মো. আজাদ, মাসুদ আলম, মনোয়ারা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ আসামি গ্রেফতার, ১৬৪ ধারা, ৩০ আগস্ট, ১৬ সেপ্টেম্বর, ১০ জন ঢাকায় গ্রেফতার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!