📌 কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় জমি বিরোধে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি মোস্তাক আহমেদকে সাদা চুল কালো করে পালানোর চেষ্টায় ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের চেহারা পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায় জমি বিরোধে সোমবার সন্ধ্যায় দুজনকে হত্যা করার পর মূল আসামি মোস্তাক আহমেদকে (৫৮) সাদা চুল কালো করে পালানোর চেষ্টায় আখাউড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আসামি নিজের চেহারা পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মোস্তাক আহমেদ (৫৮)**কে সাদা চুল কালো করে পালানোর চেষ্টায় আখাউড়া এলাকায় ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়
- 📌 **হত্যাকাণ্ডে জড়িত** মোস্তাকের স্ত্রী **হনুফা বেগম (৪৫)** ও পালিত মেয়ে **ইতি (১৮)** কুমিল্লা শহর থেকে আগেই গ্রেপ্তার
- 📌 **খালেদা আক্তার (৭০)** ও তার ভাতিজা **মঞ্জুরুল আলম (৩৫)** জমি বিরোধে হত্যা করা হয়
- 📌 **হত্যাকাণ্ডের অস্ত্র** উদ্ধার করা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন
- 📌 **জমির বাজারমূল্য** আনুমানিক **৮ লাখ টাকা**, আদালতে মামলা চলছে
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যালয়ে আজ বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার **মো. লুৎফর রহমান** জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে **খালেদা আক্তার ওরফে বেবি (৭০)** ও তার ভাতিজা **মঞ্জুরুল আলম ওরফে তুতু (৩৫)** খুন হন। হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি **মোস্তাক আহমেদ** হলেন নিহত খালেদা আক্তারের আপন ছোট ভাই ও মঞ্জুরুলের চাচা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে **কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার** থেকে মোস্তাকের স্ত্রী **হনুফা বেগম (৪৫)** ও পালিত মেয়ে **ইতি (১৮)**কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোস্তাকের অবস্থান শনাক্ত করে, তিনি **চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচলকারী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে** সাদা চুল কালো করে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় তাঁর সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং আখাউড়া এলাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য মতে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই মোস্তাক নিজের চেহারায় পরিবর্তন আনতে সাদা চুল কালো করে ফেলেন। তিনি প্রথমে **সিলেট** যান, কিন্তু সেখানে নিজেকে নিরাপদ মনে না করে গতকাল **পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রামের দিকে** যাচ্ছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়ির পাশের একটি জমি বিক্রি করা নিয়ে মোস্তাকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরোধ চলছিল। জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য **৮ লাখ টাকা**। জমিটি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। সম্প্রতি ওই জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন মোস্তাক। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর ভাতিজা **মঞ্জুরুল** সেখানে একটি ব্যানার টানিয়ে জমিটি না কেনার অনুরোধ করেন। এরপর বিরোধ আরও তীব্র হয়।
পুলিশের দাবি, ওই বিরোধের জেরে সোমবার সন্ধ্যায় **খালেদা আক্তার** ও **মঞ্জুরুল**কে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত **খালেদা আক্তার** স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মঞ্জুরুল ছিলেন তাঁর বড় ভাইয়ের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, খালেদা আক্তারকে আঘাত করার সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন মঞ্জুরুল। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দাউদকান্দির গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
"হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ডিবির একটি দল। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে হনুফা ও ইতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোস্তাকের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে আখাউড়া এলাকায় ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা জেলা, আখাউড়া এলাকা, মুরাদনগর উপজেলা, বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন, দড়ানীপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তাক আহমেদ (৫৮), খালেদা আক্তার (৭০), মঞ্জুরুল আলম (৩৫), হনুফা বেগম (৪৫), ইতি (১৮), মো. লুৎফর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৮, ৭০, ৩৫, ৪৫, ১৮, ৮ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!