📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী আব্বাস মল্লিক র্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বন্দিদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শতাধিক গুম-খুনের মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক তার জবানবন্দিতে র্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ২০১০ ও ২০১১ সালে র্যাব কর্মকর্তারা মধ্যরাতে বন্দিদের নিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় যেতেন এবং তাদের গুলি করে হত্যার পর পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রত্যক্ষদর্শী আব্বাস মল্লিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগের সাক্ষ্য দেন
- 📌 ২০১০ ও ২০১১ সালে র্যাব কর্মকর্তারা মধ্যরাতে সুন্দরবন এলাকায় বন্দিদের নিয়ে যেতেন
- 📌 বন্দিদের গুলি করে হত্যার পর পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো
- 📌 ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিকের ভাই আলকাছ মল্লিকও র্যাবের হাতে নিখোঁজ হন
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে আব্বাস মল্লিক তার জবানবন্দি প্রদান করেন। তিনি জানান, অভিযানের দিন বিকেলে সাদা পোশাকে দুই র্যাব সদস্য স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র্যাবের চার থেকে পাঁচটি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে আসত।
তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো। ট্রলার ছাড়ার সময় র্যাব সদস্যরা রশি ও সিমেন্টের বস্তা সঙ্গে নিতেন। বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদীর গভীর পানিতে যাওয়ার পর গতি কমিয়ে দেওয়া হতো। এরপর চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের একজন একজন করে ট্রলারের বাইরে আনা হতো।
আব্বাস মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্টের মধ্যে দুই র্যাব সদস্য বন্দিকে চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে গিয়ে বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন। মৃতদেহ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। পরে সাংবাদিকদের ডেকে এনে ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দেখানো এবং মরদেহ থানায় হস্তান্তর করা হতো। হত্যাকাণ্ড শেষে বরফ মিলে ফিরে এলে মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
"মরদেহ ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেট কেটে দিতেন। গুলি করে হত্যার পর মৃতদেহের গলায় বা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদী, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্বাস মল্লিক, জিয়াউল আহসান, বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!