📌 স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় র্যাবকে SRF বা SRB নামে পৃথক আইনের অধীনে পুনর্গঠনের খসড়া তৈরি করছে। ৯ অধ্যায় ২৯ ধারার খসড়ায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রাখার সুযোগ বহাল। মানবাধিকারকর্মী নূর খান সমালোচনা। ২৯ জুলাই সব মন্ত্রণালয়ের সভা।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নাম পরিবর্তন করে বাহিনীটিকে রেখে দিতে চায় সরকার — স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স (এসআরএফ) অথবা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে নতুন ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দিয়ে পৃথক আইনের খসড়া তৈরি করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে র্যাব গঠন করা হয়েছিল — নতুন দুটি নাম থেকে যেকোনো একটি চূড়ান্ত হবে। খসড়ায় মোট ৯টি অধ্যায়ে ২৯টি ধারা রাখা হয়েছে — সামরিক ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার সুযোগ বহাল রয়েছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত থাকায় জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল — এই বাস্তবতার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ত
- 📌 বর্তমান নাম: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) — আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩।
- 📌 প্রস্তাবিত নাম: স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স (এসআরএফ) বা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) — পৃথক আইন।
- 📌 খসড়া: ৯টি অধ্যায়ে ২৯টি ধারা — গঠন, দায়িত্ব, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার, তদন্ত, শাস্তি, শৃঙ্খলা, অভিযোগ প্রতিকার, প্রশিক্ষণ, সম্পদ স্থানান্তর।
- 📌 কাঠামো: বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট; মহাপরিচালক — অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা।
- 📌 বহু-বাহিনী কাঠামো: সশস্ত্র বাহিনী ও অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্য প্রেষণ/সাময়িক সংযুক্তি বহাল।
- 📌 দায়িত্ব (৮ ধরন): অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার, মাদক, সন্ত্রাস দমন, সাইবার অপরাধ, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন।
- 📌 ক্ষমতা: পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার; ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত।
- 📌 অভিযোগ প্রতিকার কমিটি: ৫ সদস্য — ৪ জন পুলিশ/মন্ত্রণালয়/ইউনিট, ১ জন মানবাধিকার/আইন বিশেষজ্ঞ (IGP মনোনীত); সিদ্ধান্ত পরামর্শমূলক।
- 📌 বৈঠক: গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে; ২৯ জুলাই সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেকটি সভা।
- 📌 সমালোচনা: মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান — নাম/পোশাক পরিবর্তনে সংস্কার হবে না; সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রাখা উচিত নয়।
- 📌 বিলুপ্তি সুপারিশকারী: জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন, মানবাধিকার সংস্থা, বিএনপি।
📰 বিস্তারিত
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নাম পরিবর্তন করে বাহিনীটিকে রেখে দিতে চায় সরকার — এ জন্য নতুন করে একটি আইন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই আইনের খসড়ায় সামরিক ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স (এসআরএফ) অথবা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে নতুন ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দিয়ে পৃথক আইনের খসড়া তৈরি করছে মন্ত্রণালয় — আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। নতুন দুটি নাম থেকে যেকোনো একটি চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
নতুন আইনের খসড়া নিয়ে গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে — বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, র্যাবকে নামমাত্র পুলিশের অধীনে না রেখে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। র্যাবের কার্যক্রমের এলাকা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে — এখন র্যাব সারা দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেটি কেবল মহানগর এলাকায় সীমাবদ্ধ করা যায় কি না এমন আলোচনাও এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে, খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি — ২৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেকটি সভা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
📋 খসড়ার কাঠামো
খসড়ায় মোট ৯টি অধ্যায়ে ২৯টি ধারা রাখা হয়েছে — এর মধ্যে ইউনিটের গঠন, দায়িত্ব, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত, সদস্যদের অপরাধ ও শাস্তি, শৃঙ্খলা, অভিযোগ প্রতিকার, প্রশিক্ষণ এবং পুরোনো র্যাবের সম্পদ ও সদস্য স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে র্যাব নামটি বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির সদস্য, স্থাপনা, অস্ত্র, সরঞ্জাম, মামলা, চুক্তি, দায়দেনা ও কার্যক্রম নতুন ইউনিটের অধীনে চলে যাবে — ফলে এটি কার্যত র্যাবের বিলুপ্তি নয়; বরং নাম বদলে পৃথক আইনের অধীনে পুনর্গঠন।
আইনের খসড়া অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাবিত ইউনিটটি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে — আগের মতোই এর মহাপরিচালক হবেন বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। তবে বর্তমান র্যাবের বহু বাহিনীভিত্তিক কাঠামো পুরোপুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব নেই — পুলিশ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী ও অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণ বা সাময়িকভাবে সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
⚖️ ক্ষমতা, তদন্ত ও অভিযোগ প্রতিকার
খসড়ায় নতুন ইউনিটের আট ধরনের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে — অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বেআইনি অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন, সাইবার অপরাধ দমন, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা এবং সরকার/আদালত/IGP-এর নির্দেশে অন্য দায়িত্ব। পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে — মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাসী সংগঠন, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে।
খসড়ায় নতুন ইউনিটকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের সুযোগ দেওয়া হয়েছে — সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনো সময় মহাপরিচালককে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। বর্তমান র্যাব মূলত অভিযান, গ্রেপ্তার ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করলেও অধিকাংশ মামলার তদন্ত করে পুলিশ বা অন্য তদন্ত সংস্থা — নতুন বিধান কার্যকর হলে নির্দিষ্ট মামলায় এই ইউনিট পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সংস্থার ভূমিকাও পালন করতে পারবে। খসড়ায় র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ৫ সদস্যের অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে — তবে কমিটির চার সদস্যই পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কর্মকর্তা; একমাত্র মানবাধিকার বা আইন বিশেষজ্ঞকে মনোনয়ন দেবেন IGP। কমিটির সিদ্ধান্তগুলো মূলত পরামর্শ বা সুপারিশমূলক হবে।
"শুধু নাম বা পোশাক পরিবর্তনের মাধ্যমে র্যাবের সংস্কার হবে না। এখানে বাহিনীর ক্ষমতা, কাঠামো ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রাখা উচিত নয় — আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব।" — মো. নূর খান, মানবাধিকারকর্মী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেক
- বর্তমান: র্যাব — আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩
- প্রস্তাবিত: SRF বা SRB — পৃথক আইন
- খসড়া: ৯ অধ্যায়, ২৯ ধারা
- কাঠামো: বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে; DG (IG পদমর্যাদা)
- সদস্য: পুলিশ + সশস্ত্র বাহিনী + অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী (প্রেষণ/সাময়িক)
- দায়িত্ব: ৮ ধরন (নিরাপত্তা, গোয়েন্দা, অস্ত্র, মাদক, সন্ত্রাস, সাইবার, পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ)
- ক্ষমতা: পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি/গ্রেপ্তার; ফৌজদারি তদন্ত
- অভিযোগ কমিটি: ৫ সদস্য (৪ পুলিশ/মন্ত্রণালয় + ১ মানবাধিকার/আইন বিশেষজ্ঞ)
- বৈঠক: রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ২৯ জুলাই সব মন্ত্রণালয়
- সমালোচক: মো. নূর খান (মানবাধিকারকর্মী)
- বিলুপ্তি সুপারিশ: জাতিসংঘ, গুম কমিশন, মানবাধিকার সংস্থা, বিএনপি
- সূত্র: প্রথম আলো, বাংলাদেশ বিভাগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!