📌 ১২৪টি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় দণ্ডিত পলাতক আসামি আনিছুর রহমানকে (৪৫) পুলিশ কুষ্টিয়া থেকে আবার গ্রেপ্তার করেছে। ২০০ কোটি টাকার প্রতারণায় ভুক্তভোগীরা টাকার ফেরত দাবি করছেন, অন্যদিকে আনিছুরের নিজস্ব আত্মীয়ও তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন
পুলিশের বিশেষ দল কুষ্টিয়া থেকে ১২৪টি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় দণ্ডিত পলাতক আসামি আনিছুর রহমানকে (৪৫) আবার গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টায় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় থেকে কুমারখালী থানার পুলিশ তাঁকে জালে ফেলে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে আনিছুরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১২৪টি মামলায় দণ্ডিত** পলাতক আনিছুর রহমানকে (৪৫) পুলিশ আবার গ্রেপ্তার করেছে।
- 📌 **২০০ কোটি টাকার প্রতারণায়** ১২৪টি মামলায় পরোয়ানা জারি ও ১২টি মামলায় সাজা পেয়েছিলেন তিনি।
- 📌 **২০২৪ সালের ৭ আগস্ট** কারাগার ভেঙে পালিয়ে যান আনিছুর। এবার উত্তরা এলাকায় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থাকার সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
- 📌 **ভুক্তভোগীরা** টাকার ফেরত দাবি করছেন। "দ্বিগুণ লাভের আশায় জমা দিয়েছিলাম, সব হারিয়েছি" — বলছেন গ্রাহকরা।
- 📌 **আনিছুরের নিজস্ব আত্মীয়ও** তার প্রতারণার শিকার। "মামার কাছে ৩ লাখ টাকা রাখছিলাম, সব হারিয়েছি" — বলেছেন তার ভাগনি।
📰 বিস্তারিত
কুষ্টিয়ার কুমারখালী সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিছুর রহমান ২০০৬ সালে নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিননগর এলাকায় ‘বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। তিনি দাবি করতেন, গ্রাহকদের জমা টাকার দ্বিগুণ ফেরত দেওয়া হবে। এই প্রতারণায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা জমা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিনি অফিস তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান।
২০২৪ সালের শুরুতে আনিছুরের বিরুদ্ধে ১২৪টি মামলায় পরোয়ানা জারি হয়। এর মধ্যে ১২টি মামলায় তিনি সাজা পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি বিদেশে পালিয়ে যান। পরে ৭ আগস্ট কারাগার ভেঙে পালিয়ে যান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আনিছুর গ্রেপ্তার এড়াতে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না। তবে গতকাল রাত ৯টায় উত্তরা এলাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে কুমারখালী থানায় ভিড় করে ভুক্তভোগীরা। রাজবাড়ীর পাংশার মাছপাড়া এলাকার বৃদ্ধ আবদুল মাজেদ (৬৪) বলেন, “সাড়ে ১১ লাখ টাকা জমাইছিলাম গার্মেন্টস থেকে। আনিছুরের এনজিওতে দ্বিগুণ লাভের আশায় রাখছিলাম। দুই বছরের মাথায় সব টাকা নিয়ে পালাইছিল।” তার স্ত্রী বিনা খাতুন বলেন, “দ্বিগুণ লাভের আশায় সব শেষ। সর্বহারা হয়ে থানায় এসেছি।”
২০১৩ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা জাহানারা খাতুন (জাহেদপুর গ্রাম) বলেন, “চাকরির বেতন, জমি ইজারা, গরু বিক্রির টাকা — প্রায় ৩০ লাখ টাকা আনিছুরকে বিশ্বাস করে দিয়েছিলাম। সব মেরে দিয়ে চলে গেছে।” আনিছুরের নিজস্ব আত্মীয় বিনা খাতুন বলেন, “মামার কাছে ৩ লাখ টাকা রাখছিলাম। এখন সব শেষ। হয় টাকা ফেরত দিক, নইলে ওর ফাঁসি দিক সরকার।”
"হয় টাকা ফেরত দিক, নইলে ওর ফাঁসি দিক"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমারখালী, কুষ্টিয়া; রাজধানীর উত্তরা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনিছুর রহমান (৪৫), আবদুল মাজেদ (৬৪), বিনা খাতুন, জাহানারা খাতুন, এসআই সোহাগ শিকদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৪টি মামলা, ১২টি সাজাপ্রাপ্ত মামলা, ২০০ কোটি টাকা, ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ আগস্ট ২০২৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!