📌 পিরোজপুরের নেছারাবাদে সমবায় সমিতির নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পলায়নকারী বিশ্বজিৎ হালদার রোববার রাতে তার বাসস্থান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আগেই একাধিক সাজার পরোয়ানা ছিল
সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা বিশ্বজিৎ হালদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রোববার দিবাগত রাতে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের কটুরাকাঠি এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বজিৎ হালদার সমবায় সমিতির লাইসেন্স নিয়ে এনজিওর আদলে একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন যেখানে পাঁচ থেকে ছয় বছরে অর্থ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ করা হতো।
- 📌 নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ থেকে ১২টি শাখা খুলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
- 📌 ২০২৩ সালে হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে বিশ্বজিৎ হালদার লাপাত্তা হয়ে যান এবং পাঁচটি মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল তার বিরুদ্ধে।
- 📌 আমানতকারীদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা বছরের পর বছর টাকা জমা রেখেছিলেন।
📰 বিস্তারিত
প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র নেছারাবাদ উপজেলায় সীমাবদ্ধ ছিল না। পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর ও ঝালকাঠি এলাকাতেও এর একাধিক শাখা চালু করে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাঠকর্মী অঞ্জু রানী জানান যে কেবল ভরতকাঠি এলাকায় প্রায় তিন হাজার মানুষের আনুমানিক ছয় থেকে সাত কোটি টাকা ওই সমিতিতে জমা রয়েছে।
অঞ্জু রানী বলেন, 'আমার কাজ ছিল ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায় করা। এখন বিপুল পরিমাণ আমানত হারিয়ে অনেক গ্রাহকই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যার কারণে হয়রানির আশঙ্কায় আমি এলাকা ছেড়ে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছি।' গ্রেপ্তারের পর আমানতকারীদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, উধাও হওয়া অর্থের বর্তমান অবস্থান এবং সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রতারিত গ্রাহকদের দাবি, তারা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী বিনয় ভূষণ প্রায় ২০ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন যা তিনি ফেরত পাননি। একইভাবে কাটা দৈহারী গ্রামের শামসুর রহমান প্রায় ১৫ লাখ টাকা জমা রেখে টাকা ফেরত পাননি। প্রতারিত গ্রাহকরা অপরাধের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন।
"আমার কাজ ছিল ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায় করা। এখন বিপুল পরিমাণ আমানত হারিয়ে অনেক গ্রাহকই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যার কারণে হয়রানির আশঙ্কায় আমি এলাকা ছেড়ে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলা, আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন, কটুরাকাঠি এলাকা; নাজিরপুর ও ঝালকাঠিতেও শাখা ছিল
- 👥 মূল ব্যক্তি: বিশ্বজিৎ হালদার (গ্রেপ্তারকৃত), অঞ্জু রানী (মাঠকর্মী), বিনয় ভূষণ (প্রতারিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী), শামসুর রহমান (প্রতারিত গ্রাহক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ; ১০-১২টি শাখা; ১০ হাজার আমানতকারী; ভরতকাঠিতে ৩ হাজার মানুষের ৬-৭ কোটি টাকা; বিনয় ভূষণের ২০ লাখ টাকা; শামসুর রহমানের ১৫ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!