📌 বাংলাভাষী ভারতীয় মুসলিম নারী মুমতাজ বেগমকে নিয়ম না মেনে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম সরকারকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নিয়মবহির্ভূত নির্বাসন প্রক্রিয়ায় কোনো আদালত প্রথমবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
বাংলাভাষী ভারতীয় মুসলিম নারী মুমতাজ বেগমকে নিয়ম মেনে না চলে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম সরকারকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তিকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর এমন ঘটনায় কোনো আদালত এই প্রথম রাজ্য সরকারের উপর আর্থিক দায়িত্ব চাপিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম সরকারকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুমতাজ বেগম মামলায়
- 📌 বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্দের বেঞ্চ নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের আইনের অপব্যবহার সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করেছেন
- 📌 মুমতাজ বেগম ১৯৯৭ সালে ভোটার সংশোধনের সময় সন্দেহভাজন ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন এবং পরে বিদেশি ঘোষণা করা হয়
- 📌 ট্রাইব্যুনাল ৩০ মে বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাকে আদেশের কপি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি
- 📌 গত চার বছরে আসামের ট্রাইব্যুনালগুলো প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে ভারতীয় নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করেছে
📰 বিস্তারিত
মুমতাজ বেগমের পরিবার যখন জানতে পারে যে তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, তখন তারা গুয়াহাটি হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাসের আবেদন করেন। হেবিয়াস কর্পাস একটি আইনি আবেদন যার মাধ্যমে আদালতের কাছে কোনো আটক ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির করার নির্দেশ চাওয়া হয়। এই মামলায় হাইকোর্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পক্ষভুক্ত করে এবং নির্দেশ দেয় যেন বাংলাদেশে ওই নারীকে খুঁজে বের করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়াস চালানো হয়।
নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালে মুমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করেছিল, যেখানে তারা দাবি করেছিল তিনি তার বাবার মেয়ে হওয়ার প্রমাণ দিতে পারেননি। কিন্তু গুয়াহাটি হাইকোর্ট এই রায় পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয় এবং যুক্তি প্রদান করে যে মামলার সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় বেগম যে সব নথি ও প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন, ট্রাইব্যুনাল সেগুলো সব বিবেচনা করেনি।
হাইকোর্টের নির্দেশে ৩০ মে বেগম ট্রাইব্যুনালে হাজির হন, কিন্তু মামলাটি নতুন করে বিবেচনা করার পরিবর্তে ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেগমের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে তাকে এমনকি ওই আদেশের একটি কপিও দেওয়া হয়নি, যা আপিল করার সুযোগ দিতে পারত।
"মামলাটি নতুন করে মতামতের জন্য ফেরত পাঠানোয় বিচারক বিপুল কুমার নাথ ব্যক্তিগত ক্ষোভ পোষণ করেছিলেন।"
হাইকোর্ট উল্লেখ করেছেন যে ৩০ মে দেওয়া আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ বেগমকে দেওয়া হয়নি, যা ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট–১৯৫০ এর অধীনে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের সরাসরি লঙ্ঘন। এই আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কোনো ব্যক্তিকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে কেবল তখনই, যখন তিনি তার জন্য উপলব্ধ সব আইনি প্রতিকার ব্যবহার করেছেন।
১৯৯৭ সালে আসামে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় মুমতাজ বেগমকে সন্দেহভাজন ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩ লাখ ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং আসামের সীমান্ত পুলিশ তাদের মতো অনেককেই ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছিল।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নগাঁও, আসাম এবং গুয়াহাটি হাইকোর্ট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুমতাজ বেগম (বাংলাভাষী ভারতীয় মুসলিম নারী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ক্ষতিপূরণ ২ লাখ টাকা, গত চার বছরে বঞ্চিত নাগরিক প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার, ১৯৯৭-এ বঞ্চিত ভোটার প্রায় ৩ লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!