📌 চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় র্যাব-৭ একটি অপারেশনে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর পেট থেকে সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। শিশুদের সঙ্গে আসা নারীসহ তাদের আটক করা হয়। র্যাবের অধিনায়ক জানান, শিশুদের পেটে ক্যাপসুলে ইয়াবা গিলে রাখা হয়েছিল
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় র্যাব-৭ একটি গোয়েন্দা অপারেশনে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর পেট থেকে সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। শিশুদের সঙ্গে আসা একজন নারীসহ তাদের আটক করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পয়োনিষ্কাশন প্রক্রিয়ায় শিশুদের পেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে র্যাব-৭ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) একটি অস্থায়ী চেকপোস্টে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুসহ একজন নারীকে আটক করে।
- 📌 শিশুদের নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের পেট থেকে সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
- 📌 শিশুদের পেটে ক্যাপসুলে ইয়াবা গিলে রাখা হয়েছিল। প্রতিটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে।
- 📌 শিশুদের পেটে ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাদের প্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।
- 📌 শিশু দুটি আগেও দুবার পেটে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে জানা গেছে।
- 📌 চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেছেন, ইয়াবা ক্যাপসুলের ভেতরে গিলে নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে র্যাব-৭ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে একটি অপারেশন পরিচালনা করে। এই অপারেশনে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুসহ একজন নারীকে আটক করা হয়। শিশুদের নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
র্যাবের অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিশু দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’
শিশু দুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিশু দুটির পেট থেকে ইয়াবা বের করে আনা হয়। শিশু দুটির পেটে এক্স-রে করে সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী এক্স-রেতে শিশুদের পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়।
"বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে।"
র্যাবের অধিনায়ক জানান, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে, তবে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। র্যাবের সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাদের প্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাঁদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। শিশু দুটি আগেও দুবার পেটে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তিনি বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আনোয়ারা উপজেলা, তৈলারদ্বীপ, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহরিয়ার (১২), আবু বকর (৯), মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ হাজার (ইয়াবা), ৯ বছর (আবু বকর), ১২ বছর (শাহরিয়ার), ৪ হাজার টাকা (প্রতি শিশু), ৮ হাজার টাকা (মোট), ৪০-৫০টি (প্রতি ক্যাপসুলে ইয়াবা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!