📌 নেত্রকোনা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ১১ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হবে একটি ধর্ষণ মামলায়। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহদী (৩০) সম্পদ বিনিময়ে মুক্তি চাইলে বলেছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্তের সঙ্গে শিশুর নবজাতকের ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া গেছে
নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়ে গেছে। আদালত ১১ নভেম্বর রায় ঘোষণা করার দিন নির্ধারণ করেছে। মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহদী (৩০) সম্পদ বিনিময়ে মুক্তি পেতে রাজি থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুরুল কবীর বলেছেন, মামলার রায়ের আগে সব প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১১ নভেম্বর রায়: নেত্রকোনা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ১১ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
- 📌 মুক্তির দাবি: অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহদী (৩০) বলেছেন, তাঁর ১২-১৫ শতাংশ জমি সহ জীবনের সব সম্পদ বিনিময়ে মুক্তি চান।
- 📌 ডিএনএ প্রমাণ: পুলিশের সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্তের সঙ্গে শিশুর নবজাতকের ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া গেছে।
- 📌 অভিযুক্তের পরিচয়: আমান উল্লাহ মাহদী (৩০) চার বছর আগে একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার বড় ভাই মাইমন (৩২)ও মামলায় অভিযুক্ত।
- 📌 শিশুর অবস্থা: শিশুটি মা-বাবার বিচ্ছেদের পর নানার বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। পরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর মা সিলেট থেকে ফিরে আসেন।
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) নেত্রকোনা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুছ সালামের আদালতে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহদী (৩০) বিচারকের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তাঁর ১২-১৫ শতাংশ জমি সহ জীবনের সব সম্পদ বিনিময়ে মুক্তি পেতে রাজি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুরুল কবীর জানান, যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে এবং সব নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএর সঙ্গে শিশুর নবজাতকের ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া গেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহদী একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি মা-বাবার বিচ্ছেদের পর নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। শিশু অসুস্থ বোধ করলে এবং শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা সিলেট থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। ঘটনার বিচার চাইতে শিশুটির মা অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে গেলে তার বড় ভাই মাইমন (৩২) গালমন্দ ও মারধর করে তাকে তাড়িয়ে দেন।
২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার এসআরবি আমান উল্লাহ মাহদীকে গ্রেপ্তার করে। নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে ২৯ জুলাই নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
"আমি সম্পদ বিনিময়ে মুক্তি পেতে রাজি। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা (মদন), সিলেট, ময়মনসিংহ (গৌরীপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমান উল্লাহ মাহদী (৩০), মাইমন (৩২), নুরুল কবীর, শিশুটির মা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ নভেম্বর (রায়), ৯৯.৯৯% (ডিএনএ মিল), ১২-১৫ শতাংশ (জমি), ৩০ (আমান উল্লাহের বয়স), ৩২ (মাইমনের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!