📌 নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের হত্যাকাণ্ডে পাঁচজন অংশগ্রহণ করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন দুজন আসামি। তাজুল ইসলাম পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করে নিহত করেন। পুলিশ জানায়, তাজুলের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের হত্যাকাণ্ডে পাঁচজন ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দুজন আসামি। দুর্গাপুর চৌকি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, তাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং তিনি পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করে নিহত করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুর্গাপুর চৌকি আদালতে দুজন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং পাঁচজন সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন।
- 📌 তাজুল ইসলাম পিস্তল দিয়ে সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে নিহত করেন। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর লোকজন আসার পর তারা চলে যান।
- 📌 দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, তাজুলের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) জানান, আলিফ তাজুলের অস্ত্র ও চোরাচালানের তথ্য র্যাবকে দিয়েছিলেন। এর আগেও আলিফের ওপর হামলা হয়েছিল।
- 📌 গত ১৫ অক্টোবর দুর্গাপুর উপজেলায় গুলিতে নিহত হন আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার প্রতিনিধি ছিলেন এবং ফেসবুক পেজ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পরিচালনা করতেন।
- 📌 মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত এগিয়ে যাচ্ছে এবং আরো আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
📰 বিস্তারিত
দুর্গাপুর চৌকি আদালতে রোববার বিকেলে দুজন আসামি ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও সাব্বির আহম্মেদ (২৫) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভুঁইয়ার নিকট জবানবন্দি নেওয়া হয়। আসামিরা জানান, তাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং পাঁচজন সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাজুল পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করে নিহত করেন। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর লোকজন আসার পর তারা চলে যান।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, আসামিরা জানিয়েছেন যে, তাজুল ইসলামের সঙ্গে আলিফের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। আলিফ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অস্ত্রের তথ্য পুলিশকে দিতেন। এ কারণে তাজুলের বাহিনীর সদস্যরা আলিফের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ওসি বলেন, তাজুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, চুরিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে।
আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) জানান, আলিফ তাজুলের অস্ত্র ও চোরাচালানের তথ্য র্যাবকে দিয়েছিলেন। বছর চারেক আগে তাজুলকে র্যাব (এখন এসআরবি) গ্রেপ্তার করেছিল। আলিফের স্ত্রী বলেন, আলিফের ওপর আগেও হামলা হয়েছিল। গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন এবং ফেসবুক পেজ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পরিচালনা করতেন।
মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, ‘মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারব।’
"তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিক আলিফের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁরা তাজুলের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতেন। সীমান্ত এলাকায় তাঁদের বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। এসব ব্যবসায় আলিফ বাধা দিতেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতেন। এসব কারণে আলিফের প্রতি তাঁদেরও ক্ষোভ ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দুর্গাপুর, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাজুল ইসলাম, লুৎফুজ্জামান আলিফ, খন্দকার শাকের আহমেদ, ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন, সাব্বির আহম্মেদ, আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার), তরিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪ (ধারা), ২৪ (ইমন), ২৫ (সাব্বির), ১৩ (মামলা), ১৫ (অক্টোবর), ১৮ (অক্টোবর), ২০ (অক্টোবর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!