📌 ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাসব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে রাজি হলেও ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ঘোষণা করা হয়েছে ব্রিটিশ কমনওয়েলথের নেতাদের সম্মেলনের আগে, যেখানে দাসব্যবস্থার ইতিহাস ও আধুনিক দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হবে
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাসব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে রাজি হলেও ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ঘোষণা তিনি The Guardian পত্রিকায় প্রকাশিত একটি মতামত লেখায় করেছেন। বার্নহামের এই পদক্ষেপের পিছনে ব্রিটিশ কমনওয়েলথের ৫০-এরও বেশি দেশের নেতাদের চারদিনের সম্মেলন রয়েছে, যা শুক্রবার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হবে। ব্রিটেনের রাজা চার্লস এই সম্মেলন আয়োজন করছেন অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার রাজধানী সেন্ট জনসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাসব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে রাজি হলেও ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
- 📌 বার্নহাম লিখেছেন, “আমি দাসব্যবস্থায় আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের যন্ত্রণা ও দুঃখের জন্য ক্ষমা চাইতে চাই এবং স্বীকার করি যে এখনও বিশ্বকে প্রভাবিত করছে এই ইতিহাস।”
- 📌 ব্রিটেন দাসব্যবস্থার শিকার দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনঃসংস্থাপনার ব্যবস্থা নেবে, যা অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
- 📌 কমনওয়েলথের নেতারা দাসব্যবস্থার জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন, বিশেষ করে বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মটলি ও ঘানার নেতৃত্বে।
- 📌 ব্রিটিশ বিরোধী দলের নেতা কেমি বাডেনোচ বার্নহামের পদক্ষেপকে “নাভের দিকে তাকানো” বলে সমালোচনা করেছেন।
- 📌 ব্রিটেন ও পর্তুগাল একত্রে আমেরিকায় ৭০ শতাংশ দাস পরিবহন করেছিল, যেখানে ব্রিটেন একা ৩.১ মিলিয়ন আফ্রিকানকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল।
- 📌 ১৮০৭ সালে ব্রিটেন দাসব্যবস্থা নিষিদ্ধ করে, কিন্তু ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়নি।
📰 বিস্তারিত
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাসব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে রাজি হলেও ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ঘোষণা তিনি The Guardian পত্রিকায় প্রকাশিত একটি মতামত লেখায় করেছেন। বার্নহাম লিখেছেন, “আমি দাসব্যবস্থায় আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের যন্ত্রণা ও দুঃখের জন্য ক্ষমা চাইতে চাই এবং স্বীকার করি যে এখনও বিশ্বকে প্রভাবিত করছে এই ইতিহাস।”
এই পদক্ষেপের পিছনে ব্রিটিশ কমনওয়েলথের ৫০-এরও বেশি দেশের নেতাদের চারদিনের সম্মেলন রয়েছে, যা শুক্রবার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। ব্রিটেনের রাজা চার্লস এই সম্মেলন আয়োজন করছেন অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার রাজধানী সেন্ট জনসে। বার্নহামের মতে, ব্রিটেন কমনওয়েলথের দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তিনি লিখেছেন, “একটি বিভক্ত ও বিপন্ন বিশ্বে আমাদের কমনওয়েলথের পরিবার আমাদের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ গ্রহণ করতে পারি।”
বার্নহাম ঘোষণা করেছেন, ব্রিটেন দাসব্যবস্থার শিকার দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনঃসংস্থাপনার ব্যবস্থা নেবে। এই পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গর্ডন ব্রাউন, যিনি ১৯৯১ সালে ব্রিটেনের দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ কমাতে কাজ করেছিলেন।
দাসব্যবস্থার জন্য ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা চলছে অনেক বছর ধরে। ২০১৩ সাল থেকে কারিবিয়ান কমিউনিটি (CARICOM) পশ্চিমা দেশগুলিকে দাসব্যবস্থার জন্য দায় স্বীকার করতে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দিতে দাবি করছে। বিশেষ করে বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মটলি ও ঘানার নেতৃত্বে এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে। ঘানায় প্রায় ১০-১৫ শতাংশ দাস পরিবহন করা হয়েছিল, এবং তারা জাতিসংঘে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস করতে সক্ষম হয়েছিল।
ব্রিটিশ বিরোধী দলের নেতা কেমি বাডেনোচ বার্নহামের পদক্ষেপকে “নাভের দিকে তাকানো” বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
"আমি দাসব্যবস্থায় আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের যন্ত্রণা ও দুঃখের জন্য ক্ষমা চাইতে চাই এবং স্বীকার করি যে এখনও বিশ্বকে প্রভাবিত করছে এই ইতিহাস।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, সেন্ট জনস (অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যান্ডি বার্নহাম (ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী), কেমি বাডেনোচ (বিরোধী দলের নেতা), মিয়া মটলি (বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী), গর্ডন ব্রাউন (ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০+ (কমনওয়েলথের দেশ), ৩.১ মিলিয়ন (ব্রিটেনের দাস পরিবহন), ১০-১৫% (ঘানায় দাস পরিবহন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!