📌 সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছে, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের পূর্বের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা দাবি করা যাবে না। জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের মধ্যে নিজেদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে এই বিধান প্রযোজ্য হবে
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকরা পূর্বের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা দাবি করতে পারবেন না। রোববার (২৫ অক্টোবর) আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে এই বিধান প্রযোজ্য হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের পূর্বের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে ব্যবহার করা যাবে না।
- 📌 জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের মধ্যে নিজেদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে এই বিধান প্রযোজ্য হবে।
- 📌 সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা তাদের প্রাথমিক নিয়োগের তারিখ থেকে নির্ধারিত হবে।
- 📌 জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান হবে জাতীয়করণের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের নিচে।
- 📌 প্রধান শিক্ষক পদে দাবি করার জন্য শিক্ষকদের ২০০৮ সালের পরিপত্র অনুযায়ী শর্ত পূরণের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের জাতীয়করণকৃত শিক্ষক বিধিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকদের পূর্বের অর্জিত ৫০ শতাংশ ‘কার্যকর চাকরিকাল’ গণনা করা হবে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। তবে এই বিধান সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা দাবি করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আদালত আরও বলেছে, চাকরিসংক্রান্ত বিচারিক নীতি অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা তাদের প্রাথমিক নিয়োগের তারিখ থেকে নির্ধারিত হবে।
২০১১ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের বেঞ্চ ২০১৩ সালের বিধিমালার ২(গ) বিধির বৈধতা বহাল রেখেছিলেন। তবে ৯(১) বিধির সেই অংশ, যেখানে জাতীয়করণের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ সরাসরি শিক্ষকের নিচে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল, তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন আদালত। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে গণ্য করে সে অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সরকার হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিচে তাদের অবস্থান রাখার বিষয়ে সরকারি বিধিমালার বৈধতা বহাল রেখেছেন। তবে প্রধান শিক্ষক পদে দাবি করার বিষয়ে আদালত বলেছেন, ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর অফিস আদেশে রিট আবেদনকারীদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারা ওই নিয়োগ আদেশ কিংবা পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তগুলো চ্যালেঞ্জ করেননি। এছাড়াও, ২০০৮ সালের ১৪ জুলাইয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি বা এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণের প্রমাণও তারা উপস্থাপন করতে পারেননি।
"২০১৩ সালের জাতীয়করণকৃত শিক্ষক বিধিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকদের পূর্বের অর্জিত ৫০ শতাংশ ‘কার্যকর চাকরিকাল’ গণনা করা হবে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। এ বিধান সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা দাবি করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শতাংশ, ২৫ অক্টোবর, ২ জুলাই, ২০১৩, ১০ নভেম্বর, ১৪ জুলাই
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!