📌 কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান (শামিম) এর দেহাবশেষ রাতের আঁধারে কবর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা পুনরায় পুরাতন কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনায় জড়িতদের তদন্ত চলছে এবং পরিবার থানায় অভিযোগ দাখিল করছে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের দেহাবশেষ রাতের আঁধারে কবর থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে তা পুনরায় পুরাতন কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাতের আঁধারে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শামিমের কবর খুঁড়ে তার দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়া হয় এবং দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়।
- 📌 সহকারী কমিশনার প্রদীপ কুমার দাশ পরিদর্শনে দেখেন কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ।
- 📌 বিকেল ৪টার দিকে দরবারের দেহাবশেষ পুনরায় ৫০০ বিঘা মাঠ নামে পরিচিত পুরাতন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
- 📌 ওসি খালেদুর রহমান জানান, রাতের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
- 📌 গত ১১ এপ্রিল শামিমের দরবারে ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটে, চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
📰 বিস্তারিত
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি দেখেন কবরস্থান থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ। পরে প্রশাসনের নির্দেশে ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার শামিমের দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের জন্য উপজেলার ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত স্থানীয় কবরস্থানে বিকেল ৪টার দিকে দাফন করা হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খালেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পায়। সহকারী কমিশনার প্রদীপ কুমার দাশের নির্দেশে এবং এলাকাবাসীদের সহায়তায় বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়। ওসি বলেন, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত মইনুল ইসলামের ভাই বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারভুক্ত চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বর্তমানে তাঁরা জামিনে রয়েছেন।
"কবর থেকে শামিমের দেহাবশেষ তুলে মাজার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছিল, আমরা তাঁর পুরোনো কবর খুঁড়ে দেখেছি। সেখানে তাঁর দেহাবশেষ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাজারে থাকা তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানেই পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা, ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রদীপ কুমার দাশ (সহকারী কমিশনার), খালেদুর রহমান (ওসি), দেলোয়ার হোসেন (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ বিঘা মাঠ, ৪ টা (টার), ৩ টা (টা), ১১ এপ্রিল, ১৮০ থেকে ২০০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!