📌 জাজিরা থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ১০ হাজার টাকা চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ইতি আক্তার দাবি করেন, পুলিশ কর্মকর্তা টাকা না দেওয়ায় তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না
জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ১০ হাজার টাকা চাওয়ার অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অডিওতে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের একজন সদস্যের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার কথোপকথন শোনা যায়, যেখানে টাকার অঙ্ক উল্লেখসহ বিকাশ নম্বর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাজিরা থানার এসআই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ তদন্তে ১০ হাজার টাকা চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছে।
- 📌 ইতি আক্তার (২৫) বলেন, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করত।
- 📌 ১৭ আগস্ট রাতে স্বামীসহ পরিবার তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
- 📌 ৪ সেপ্টেম্বর জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি ভুক্তভোগী পক্ষ।
- 📌 ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের অডিওতে পুলিশ কর্মকর্তা টাকা চাওয়ার কথা বলেন, বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয়।
- 📌 ওসি সালেহ আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় করা লিখিত অভিযোগের তদন্তে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডে টাকার অঙ্ক উল্লেখসহ বিকাশ নম্বর দেওয়ার কথা শোনা যায়। অডিওতে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের একজন সদস্য দুলাল মোড়ল পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে দুলাল মোড়ল জানতে চান, কত টাকা দিতে হবে। জবাবে অপর প্রান্ত থেকে ‘১০-এর মতো দিয়ে দেন’ বলা হয়। একপর্যায়ে বিকাশ নম্বর জানতে চাইলে অপর প্রান্ত থেকে একটি নম্বর দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী ইতি আক্তার (২৫) বলেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। গত ১৭ আগস্ট রাতে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এই ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই রফিকুল ইসলামকে।
ইতি আক্তারের মা খাদিজা বেগম বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা টাকা চাইলে তাঁরা বলেছিলেন, টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাঁর ভাতিজা দুলাল মোড়ল (সৌদিপ্রবাসী) টাকা দেবেন বলে জানানো হয়। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় ইতি আক্তারের ঘটনার কোনো সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা থানায় গেলেও পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসআই রফিকুল ইসলাম টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে তাঁর কক্ষ থেকে বের হয়ে ওসির কক্ষে চলে যান। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি এবং খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে অডিওটির স্বতন্ত্র ফরেনসিক যাচাই হয়নি। ফলে কথোপকথনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং রেকর্ডটি সম্পাদিত কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
"বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুক দাবিতে আমাকে নির্যাতন করতেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই রফিকুল স্যারকে। তিনি আমার কাছে টাকা চাইলে আমি বলি, আমার ভাই প্রবাসে থাকেন, তিনি টাকা দেবেন। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় এখন আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।"
ইতি আক্তার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাজিরা থানা, শরীয়তপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রফিকুল ইসলাম (এসআই), ইতি আক্তার, খাদিজা বেগম, দুলাল মোড়ল, সালেহ আহমেদ (ওসি), জাকারিয়া রহমান (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার টাকা, ১৭ আগস্ট, ৪ সেপ্টেম্বর, ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!