📌 বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নবজাতককে নিয়মবহির্ভূতভাবে দ্রুত স্যালাইন দেওয়ার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবার দাবি করেছে, ইন্টার্ন নার্সের অবহেলা ও চিকিৎসা নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে শিশু মারা গেছে। ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুতে পরিবারের অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, শিশুটিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দ্রুত স্যালাইন দেওয়ার কারণে মৃত্যু ঘটেছে। নিহত শিশুর পরিবার তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ডৌয়াতলা এলাকার রাসেল ইসলাম সুজন ও লাকি দম্পতির কোলজুড়ে জন্ম নেওয়া নবজাতক মৃত্যুবরণ করেছে
- 📌 গত ২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে শিশুকে ৫০ মিলি স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ম অনুযায়ী ১০০ মিলি হওয়ার কথা
- 📌 প্রতি মিনিটে ৫ থেকে ৬ ফোঁটা প্রবাহে স্যালাইন দেওয়ার নিয়ম লঙ্ঘন করে ইন্টার্ন নার্স অরনি দ্রুতগতিতে স্যালাইন পুশ করেছেন
- 📌 স্যালাইন প্রবাহের কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অবনতির পর মৃত্যু ঘটে
- 📌 পরিবার দাবি করেছে, এটি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে
- 📌 বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ জানান, ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে
📰 বিস্তারিত
বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ডৌয়াতলা এলাকার রাসেল ইসলাম সুজন ও লাকি দম্পতির কোলজুড়ে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটিকে ১০০ মিলি স্যালাইন দেওয়ার কথা ছিল, যার প্রবাহের মাত্রা নির্ধারিত ছিল প্রতি মিনিটে মাত্র ৫ থেকে ৬ ফোঁটা।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা ইন্টার্ন নার্স অরনি কোনো ধরনের সঠিক পর্যবেক্ষণ বা নিয়ম না মেনে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৫০ মিলি স্যালাইন শিশুটির শরীরে দ্রুতগতিতে পুশ করে দিয়েছেন। স্যালাইনের এই অস্বাভাবিক ও দ্রুত প্রবাহের কিছুক্ষণ পরই নবজাতকটির শারীরিক অবস্থা চরম অবনতির দিকে যাওয়ার পর মৃত্যু ঘটে।
নিহত শিশুর পরিবারের ক্ষুব্ধ স্বজনরা বলেছেন, ‘যেখানে ধীরে ধীরে ফোঁটায় ফোঁটায় স্যালাইন যাওয়ার কথা, সেখানে এত দ্রুত ও বেশি পরিমাণে স্যালাইন শরীরে প্রবেশ করায় শিশুটির কোমল শরীর তা সহ্য করতে পারেনি। এটি সরাসরি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড।’ তারা দাবি করেছেন, ‘আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং দোষী নার্স ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তি চাই।’
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বরগুনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর সঠিক সত্য উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। চিকিৎসায় বা স্যালাইন প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"যেখানে ধীরে ধীরে ফোঁটায় ফোঁটায় স্যালাইন যাওয়ার কথা, সেখানে এত দ্রুত ও বেশি পরিমাণে স্যালাইন শরীরে প্রবেশ করায় শিশুটির কোমল শরীর তা সহ্য করতে পারেনি। এটি সরাসরি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল, বরগুনা সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইন্টার্ন নার্স অরনি, ডা. আবুল ফাত্তাহ (সিভিল সার্জন), রাসেল ইসলাম সুজন ও লাকি (নিহত শিশুর অভিভাবক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ মিলি (স্যালাইন), ১০০ মিলি (নিয়মিত পরিমাণ), ১০ মিনিট (দ্রুতগতির সময়), ৫-৬ ফোঁটা (প্রতি মিনিটের নিয়মিত প্রবাহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!