📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী। তিনি জানান, জিয়াউল আলকাছ মাঝিকে গলফ অপারেশনে জড়িত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক র্যাব কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী জিয়াউল আহসানের গলফ অপারেশনে জড়িত একটি হত্যার ঘটনায় বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান, জিয়াউল আহসান আলকাছ মাঝিকে গলফ অপারেশনের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাব্বির রহমান ওসমানী জানান, জিয়াউল আহসান ‘গলফ অপারেশন’-এ জড়িত আলকাছ মাঝিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- 📌 সাব্বির রহমান অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে এই দায়িত্ব থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
- 📌 আলকাছ মাঝির পরিবার জানান, জিয়াউল আহসান তাঁকে চার-পাঁচ দিন আগে ডেকে নিয়ে গেছেন।
- 📌 ২০১০ সালের মে মাসে জিয়াউল আহসান বরিশালে আসার পর চারজন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
- 📌 সাব্বির রহমান জানান, চারজন ব্যক্তিকে ট্রলারে উঠিয়ে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মোহনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাবেক র্যাব কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, জিয়াউল আহসান ‘গলফ অপারেশন’-এর কথা বলে দেওয়ায় আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাব্বির রহমান বলেন, তিনি অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে এই দায়িত্ব থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে জিয়াউল আহসান তাঁকে বলেন, ‘থাক, লাগবে না’।
সাব্বির রহমান জানান, জিয়াউল আহসান গলফ অপারেশন পরিচালনার সময় যেসব মাঝি নৌকা বা ট্রলার চালাতেন, তাঁদের মধ্যে আলকাছ মাঝি অন্যতম ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আলকাছ মাঝিকে খুঁজে পাচ্ছে না তাঁর পরিবার’। আলকাছের স্ত্রী জানান, চার-পাঁচ দিন আগে জিয়াউল আহসান তাঁকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গেছেন। এর পর থেকেই তাঁর আর কোনো সন্ধান মিলছে না।
২০১০ সালের মে মাসের এক সন্ধ্যায় সাব্বির রহমান জানতে পারেন, জিয়াউল আহসান বরিশাল আসছেন। তিনি বলেন, জিয়াউল আহসান বরিশালে আসার পর চারজন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। সাব্বির রহমান জানান, জিয়াউল আহসান বরিশালে আসার পর তাঁকে তাঁর গাড়ির পেছনে বসতে বলেন। তাঁরা চরদুয়ানী ঘাটে পৌঁছান এবং সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত একটি মাছ ধরার ট্রলার দেখতে পান।
সাব্বির রহমান জানান, র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা চারজন ব্যক্তিকে মাথায় কালো টুপি পরা ও হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় ট্রলারে উঠতে দেখেন। এই চারজনকে ট্রলারের মাছ রাখার খোলে ঢোকানো হয়। এরপর জিয়াউল আহসান ট্রলারটিকে মোহনার দিকে নিয়ে যেতে বলেন। সাব্বির রহমান বলেন, সেদিন আবহাওয়া প্রতিকূল ছিল। প্রায় দেড় ঘণ্টা চলার পর জিয়াউল আহসান তাঁকে পানির গভীরতা মাপার নির্দেশ দেন।
"আলকাছ মাঝি গলফ অপারেশনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য চরদুয়ানী বাজারে বলে বেড়াচ্ছে, যা র্যাবের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে।"
সাব্বির রহমান জানান, জিয়াউল আহসান গতি কমিয়ে দিতে বলেন। এরপর জিয়াউলের ইশারায় র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা খোল থেকে প্রথম ব্যক্তিকে হাত বাঁধা ও মুখ ঢাকা অবস্থায় পাটাতনে তুলে আনেন। তাঁর গলা ও পায়ে দুটি সিমেন্টভর্তি বস্তা বাঁধা হয়। এরপর র্যাবের এক সদস্য মাথায় কুশন ঠেকিয়ে পিস্তল দিয়ে একটি গুলি করেন। পরে অন্য এক সদস্য নাভি বরাবর পেট কেটে ফেলেন এবং পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে কাটার সঠিকতা নিশ্চিত করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চরদুয়ানী ঘাট, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিয়াউল আহসান, মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী, আলকাছ মাঝি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ (তম সাক্ষী), ৪ (হত্যা করা ব্যক্তি), ২০১০ (বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!