📌 হাসপাতালে অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে জমির দলিলে সই করিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবী ও সাবরেজিস্ট্রি কর্মকর্তাদের মতে, স্বাক্ষর মাত্রেই জমির মালিকানা বদলে যায় না — রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। ৩ সেপ্টেম্বর ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী জোর করে অসুস্থ বৃদ্ধের কাছ থেকে জমির দলিলে সই করিয়ে নিচ্ছেন
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা শারীরিকভাবে দুর্বল এক বৃদ্ধের সামনে একজন নারী জোর করে জমির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন। ৩ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই ঘটনা ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নারী দাবি করেন তিনি বৃদ্ধের মেয়ে এবং জমির দলিলে তার স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনার পর নেটিজেনদের মধ্যে প্রশ্ন জাগে: হাসপাতালে বা বাড়িতে বসে আগে থেকে দলিলে সই করে রাখলে তার আইনি গুরুত্ব কতটা? এবং দলিলে স্বাক্ষর করা ও রেজিস্ট্রেশন — এই দুটির মধ্যে পার্থক্য কী?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী হাসপাতালে অসুস্থ বৃদ্ধের কাছ থেকে জমির দলিলে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন।
- 📌 স্বাক্ষর মাত্রেই জমির মালিকানা বদলে যায় না — রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী, দলিল নিবন্ধন ছাড়া জমির মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয় না।
- 📌 রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর-সংক্রান্ত দলিলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক (ধারা ১৭ ও ৪৯)।
- 📌 সাবরেজিস্ট্রি কর্মকর্তারা বলছেন, দলিলের স্বাক্ষরকারীদের পরিচয় যাচাই, দলিলের বিষয় ও সম্পাদনের বিষয় নিশ্চিত করতে হয়।
- 📌 রেজিস্ট্রেশন ফি ১ শতাংশ এবং স্ট্যাম্প শুল্ক ১ দশমিক ৫ শতাংশ — এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার কর ও উৎসে করও দিতে হয়।
- 📌 অনানুষ্ঠানিক খরচ দিতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে জমির অবস্থান ও শ্রেণিভেদে উৎসে করের হার ভিন্ন হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে জমির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম আলোর সংবাদদাতারা জানান, জমির মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর মাত্রেই কাজ শেষ হয় না। রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, দলিলের স্বাক্ষরকারীদের পরিচয় যাচাই, দলিলের বিষয় ও সম্পাদনের বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। এছাড়াও, দলিলের ধরন, জমির মূল্য ও অবস্থান অনুযায়ী সরকারি ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক ও কর দিতে হয়।
সাবরেজিস্ট্রি কর্মকর্তারা বলছেন, জমির পুরোটা বা বড় অংশ যে উপজেলায় অবস্থিত, সেই এলাকার সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দলিল উপস্থাপন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, দলিলের সম্পাদনকারীদের নিবন্ধন কর্মকর্তার সামনে হাজির হতে হবে। এরপর নিবন্ধন কর্মকর্তা অনুসন্ধান করবেন যে, দাবি করা হচ্ছে এমন ব্যক্তিরা সত্যিই দলিলটি সম্পাদন করেছেন কি না। একই সঙ্গে তাদের পরিচয়ও যাচাই করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির বিভিন্ন ধরনের হস্তান্তর-সংক্রান্ত দলিলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর ৪৯ ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধনযোগ্য কোনো দলিল নিবন্ধিত না হলে সেটি স্থাবর সম্পত্তির অধিকার সৃষ্টি, ঘোষণা, হস্তান্তর, সীমিত বা বিলুপ্ত করতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি হাসপাতালের বিছানায় বসে একটি দলিলে স্বাক্ষর করলেও, তা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া জমির মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয় না।
সাধারণ বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি দলিল মূল্যের ১ শতাংশ এবং স্ট্যাম্প শুল্ক ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার কর ও উৎসে কর যুক্ত হয়। তবে এসব করের হার সারা দেশে এক নয়; জমির অবস্থান, শ্রেণি ও হস্তান্তরের ধরন অনুযায়ী হার ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে উৎসে করের ক্ষেত্রে শুধু জমির মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ ধরে হিসাব করা ঠিক নয়। ২০২৬ সালের সংশোধিত বিধানে জমির অবস্থান ও শ্রেণিভেদে উৎসে করের হার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণের বিধান রয়েছে। ফলে একই দামের জমি হলেও এলাকাভেদে রেজিস্ট্রির মোট খরচে পার্থক্য হতে পারে।
"দলিলে স্বাক্ষর করা আর দলিল নিবন্ধন করা এক বিষয় নয়। জমি বিক্রি, দান বা অন্য কোনোভাবে মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ছাড়া জমিতে নতুন মালিকের আইনগত অধিকার সৃষ্টি হয় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়, বিভিন্ন উপজেলা)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অসুস্থ বৃদ্ধ, নারী (মেয়ের দাবি), সাবরেজিস্ট্রি কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ সেপ্টেম্বর, ধারা ১৭, ধারা ৪৯, ধারা ৩৪, ১ শতাংশ, ১ দশমিক ৫ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!