📌 পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্টে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে ১৫০-২০০ জনের দল ২০টি দোকানে তালা দিয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায় রোববার সকাল ১১টার দিকে জমির মালিকানা বিরোধকে কেন্দ্র করে আচার, ঝিনুক ও শুঁটকি মার্কেটে ২০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা দোকান থেকে উচ্ছেদ, মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়া এবং কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি ও তাঁর ছেলে রিয়াজ মুসুল্লির নেতৃত্বে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল ঘটনায় জড়িত ছিল।
- 📌 দোকানদাররা ২০১৮ সাল থেকে স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে আচার, ঝিনুক ও শুঁটকি ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
- 📌 শুঁটকি ব্যবসায়ী রুবেল মৃধা বলেছেন, '২০১৮ সাল থেকে এখানে ব্যবসা করছি। সকালে অনেক লোক এসে দোকান ছেড়ে দিতে বলে। পরে মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।'
- 📌 ব্যবসায়ী মনির হোসেন অভিযোগ করেছেন যে পুলিশের কাছে খবর দেওয়ার কারণে তাঁকে মারধর করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার উদ্বেগে তিনি দোকান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
- 📌 স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলসহ অন্যরা দোকানিদের মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ব্যবসায়ীরা বলেছেন যে তারা জমির মালিকানা নিয়ে আইনগত বিরোধ থাকলেও আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। আচার ব্যবসায়ী মো. মহিবুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, 'জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি আইনগতভাবে সমাধান হতে পারে। কিন্তু আমাদের দোকান থেকে বের করে দিয়ে তালা দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি।'
মহিপুর থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন যে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলা হয়েছিল। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। তবে মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
জমির মালিকানা দাবি করা বেল্লাল মোল্লা জানিয়েছেন যে জমি নিয়ে পটুয়াখালীর আদালতে মামলা চলছে এবং জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তার দখলে রয়েছে। এর আগেও দোকানগুলোতে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল যা পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে খুলে দেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি বলেছেন, 'দখল করবে, করবে না—তাইলে কী করবে। এই জমি আমার, গত ১৭ বছর বারেক মোল্লা দখল করে রেখেছে। এই জমির দলিলও আমার নামে।' তিনি আরও জানান, '৫ তারিখের পরে আমি এসিল্যান্ডের কাছে গিয়েছি, সংবাদ সম্মেলন করেছি, তাদেরকে ডেকেছি; কিন্তু তারা আসে না। বাধ্য হয়ে আজ করতে হয়েছে।'
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার স্বীকার করেছেন যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'জমিটি লুজ খতিয়ানের হওয়ায় বিরোধ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কাগজপত্র অনুযায়ী উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। সেখানে পুনরায় দখল ও দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।'
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন যে সাগরে জমি বিলীন হওয়ার সময় একাধিক ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন এটি 'দলীয় কোনো পরিচয় নয়, মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণেই ঝামেলা হয়েছে' এবং সেখানে জমি না থাকায় বিষয়টির সমাধান জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি আইনগতভাবে সমাধান হতে পারে। কিন্তু আমাদের দোকান থেকে বের করে দিয়ে তালা দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট, আচার-ঝিনুক-শুঁটকি মার্কেট এলাকা, মহিপুর থানার এখতিয়ার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজিজ মুসুল্লি (কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি), রিয়াজ মুসুল্লি (তাঁর ছেলে), বেল্লাল মোল্লা (জমির মালিকানা দাবিদার), রুবেল মৃধা (শুঁটকি ব্যবসায়ী), মনির হোসেন (ব্যবসায়ী), মো. মহিবুল্লাহ (আচার ব্যবসায়ী), রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেল (স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি দোকানে তালা, ১৫০-২০০ জনের দল, ১৭ বছর ধরে জমি দখলে রাখা, রোববার সকাল ১১টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!