📌 যুগান্তর প্রতিবেদন। হাইকোর্ট বেঞ্চ—বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক। রিট আবেদনকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। এসডোর গবেষণা ২০২৫ জুলাই-২০২৬ জুন। জাবি ইএইচই ল্যাবে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও FTIR দিয়ে ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট পরীক্ষা। ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক (২০-৩২০ কণা/১০০গ্রাম)। চার দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম) টুথপেস্টে। শিশু টুথপেস্ট ৬-এর ৪-এ। ২,৭৬০ ভোক্তা জরিপ। লেবেলিং নেই।
দেশের বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে 'ক্ষতিকর' মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন রিট দায়ের করেন। রোববার (২৬ জুলাই) লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়—যেখানে দেখা গেছে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- হাইকোর্ট বেঞ্চ: বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক—মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আদেশ।
- আদেশ: তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন, ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল।
- রিট আবেদনকারী: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন—প্রাথমিকভাবে তদন্ত চান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্য প্রত্যাহারের আবেদন।
- গবেষণা: এসডো (ESDO)—২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী সমন্বিত গবেষণা।
- পরীক্ষা: ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)' ল্যাবরেটরিতে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে।
- ফলাফল: ৩৪-এর মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক—বাকি ৮টিতে পাওয়া যায়নি; প্রতি ১০০ গ্রামে ২০-৩২০টি কণা।
- উৎপত্তিস্থল: বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম—চার দেশের টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক।
- বাংলাদেশি নমুনা: ২৫টির মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক; ভারত ৫-এর ১; থাইল্যান্ড ২-এর ১; ভিয়েতনাম ২-এর ২-তেই।
- সর্বোচ্চ: একটি টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।
- শিশু টুথপেস্ট: ৬টির মধ্যে ৪টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক (প্রতি ১০০ গ্রামে ২০-১৪০টি কণা)।
- লেবেলিং: কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না।
- ভোক্তা জরিপ: ২,৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশ: ৩ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি
দেশের বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে 'ক্ষতিকর' মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে, বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এই আইনজীবী বলেছেন—প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্ত চান তিনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করবেন।
এসডোর গবেষণা: ২০২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ জুন
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে এই সংস্থা। গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল—যেন বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মূল্যায়ন করা যায়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এই প্রথম—যা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করতে মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
জাবিতে ল্যাব পরীক্ষা: স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও FTIR
টুথপেস্ট ব্যবহারের অভ্যাস এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা জানতে এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)' ল্যাবরেটরিতে ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (FTIR) ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
চার দেশের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক
পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। একটি টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মিলেছে।
দেশে তৈরি ও আমদানি করা উভয় ধরনের টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো—শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। বাকি ২টি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
লেবেলিং নেই—ভোক্তা অন্ধকারে
গবেষণায় আরও দেখা গেছে—পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা যেমন জানতে পারছেন না তারা কী ব্যবহার করছেন—তেমনই নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্যও এসব পণ্য কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই লেবেলিং অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘাটতি। আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী—বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নে—প্রসাধন সামগ্রীতে ব্যবহৃত সব উপাদান লেবেলে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশেও এই ধরনের নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন প্রয়োজন—যাতে ভোক্তারা সচেতন পছন্ত করতে পারেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকরভাবে নজরদারি করতে পারে।
'গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।'—এসডোর গবেষণা প্রতিবেদন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইএইচই ল্যাবরেটরি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!