📌 দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. রুহুল হক ও তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুর্নীতি মামলা অনুমোদন করেছে। দুদকের অনুসন্ধানে রুহুল হকের ১৯ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। জিয়াউল হকের ক্ষেত্রেও ৮ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও তাঁর ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুর্নীতি মামলা অনুমোদন করেছে। দুদকের অনুসন্ধানে রুহুল হকের নামে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও তাঁর নামে ১১৬ কোটি টাকার সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বর্তমানে ১৩ কোটি টাকা স্থিতি রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদক অনুমোদন: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুর্নীতি মামলা
- 📌 রুহুল হকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকা
- 📌 রুহুল হকের ব্যাংক হিসাব: ৩৯টি হিসাবে মোট ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা জমা, ৫১ কোটি টাকা উত্তোলন
- 📌 জিয়াউল হকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: ৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকা
- 📌 জিয়াউল হকের ব্যাংক হিসাব: ১৫টি হিসাবে মোট ৩৩ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেন
- 📌 দুদক অভিযোগ: অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য প্রদান না করা ও লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থ গোপন
📰 বিস্তারিত
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের নামে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা। তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ৫ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ১১২ টাকা। নিট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ কোটি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। তবে তাঁর নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। ফলে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে রুহুল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ৩৯টি হিসাব থেকে ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা এবং ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে এসব হিসাবগুলোতে ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯ টাকা স্থিতি রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বারবার অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রুহুল হকের ছেলে জিয়াউল হকের নামে ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৩ টাকা। তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ৫ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ টাকা। নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৮ টাকা। তাঁর নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৬৩৮ টাকা। ফলে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকা।
জিয়াউল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ১৫টি হিসাব থেকে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ টাকা জমা এবং ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবগুলোতে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা স্থিতি রয়েছে। দুদকের অভিযোগ, জিয়াউল হকও অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য দিতে পারেননি এবং লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করেছেন।
"দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় রুহুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, জিয়াউল হক, মো. সাইদুর রহমান খান (দুদক সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ কোটি টাকা (রুহুল হকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ), ৮ কোটি টাকা (জিয়াউল হকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ), ৩৯টি ব্যাংক হিসাব (রুহুল হক), ১১৬ কোটি টাকা (সন্দেহজনক লেনদেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!