📌 দুদক সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও তাঁর ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলা অনুমোদন করেছে। রুহুল হকের ১৯ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও জিয়াউল হকের ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, উভয়কেই ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করার অভিযোগে মামলা করা হবে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও তাঁর ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলা অনুমোদন করেছে। দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সোমবার সাংবাদিকদের জানান, রুহুল হক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা দুর্নীতি ও অর্থ প্লাবিতকরণের অভিযোগের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রুহুল হকের ৪৫ কোটি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকার সম্পদ ও ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে বৈধ আয়ের উৎস মাত্র ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা — অর্থাৎ ১৯ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন।
- 📌 রুহুল হকের নামে ৩৯টি ব্যাংক হিসাব থেকে মোট ১১৬ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে বর্তমানে ১৩ কোটি টাকা স্থিতি রয়েছে।
- 📌 জিয়াউল হকের নামে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে, যেখানে বৈধ আয়ের উৎস মাত্র ১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা — ৮ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন।
- 📌 জিয়াউল হকের নামে ১৫টি ব্যাংক হিসাব থেকে মোট ৩৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে বর্তমানে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা স্থিতি রয়েছে।
- 📌 দুদক অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় উভয়কেই মামলা করার।
📰 বিস্তারিত
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রুহুল হকের নামে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা। এছাড়াও তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ৫ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ১১২ টাকা। বৈধ আয়ের উৎসের তুলনায় ১৯ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক মামলা অনুমোদন করেছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, রুহুল হকের নামে ৩৯টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে, যেখানে মোট ৬৪ কোটি টাকা জমা এবং ৫১ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবের মোট লেনদেনের পরিমাণ ১১৬ কোটি টাকা, যেখানে বর্তমানে ১৩ কোটি টাকা স্থিতি রয়েছে। দুদক অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
রুহুল হকের ছেলে জিয়াউল হকের নামে ১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তাঁর পারিবারিক ব্যয়ের পরিমাণ ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বৈধ আয়ের উৎসের তুলনায় ৮ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক মামলা অনুমোদন করেছে।
জিয়াউল হকের নামে ১৫টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে, যেখানে মোট ১৭ কোটি টাকা জমা এবং ১৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবের মোট লেনদেনের পরিমাণ ৩৩ কোটি টাকা, যেখানে বর্তমানে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা স্থিতি রয়েছে। দুদক অভিযোগ করেছে, জিয়াউল হকও অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করেছেন।
"দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও তাঁর ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলা অনুমোদন করেছে। এসব অভিযোগে উভয়কেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সদর দফতর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আ ফ ম রুহুল হক, জিয়াউল হক, মো. সাইদুর রহমান খান (দুদক সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- রুহুল হকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকা
- জিয়াউল হকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: ৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকা
- রুহুল হকের ব্যাংক লেনদেন: ১১৬ কোটি টাকা
- জিয়াউল হকের ব্যাংক লেনদেন: ৩৩ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!