📌 রংপুরে এক পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জন আসামির মূত্রের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাদের স্বীকারোক্তিতে ইয়াবা সেবনের কথা থাকায় প্রশ্ন উঠেছে: মাদক সেবনের কত দিন পর তা শনাক্ত হয়? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা জানুন
রংপুরে এক পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জন আসামির মূত্রের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ইয়াবা সেবনের কথা থাকায় প্রশ্ন উঠেছে: মাদক সেবনের কত দিন পর তা শনাক্ত হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, নমুনা সংগ্রহের সময়ের সাথে মাদকের শনাক্তকালের পার্থক্য এই ফলাফলের কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মূত্রের ডোপ টেস্টে মাদক শনাক্ত হয়নি, কিন্তু তাদের স্বীকারোক্তিতে ইয়াবা সেবনের কথা উল্লেখ ছিল।
- 📌 ২০ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর (৩০ আগস্ট) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যখন ইয়াবার প্রধান উপাদান মেথামফেটামিন মূত্রে সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যে শনাক্ত হয়।
- 📌 নেগেটিভ ফল মানে মাদক সেবন করা ব্যক্তি কখনো মাদক নেননি না, বরং পরীক্ষার সময় মাদক বা তার বিপাকজাত পদার্থ শনাক্তযোগ্য মাত্রায় পাওয়া যায়নি।
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক সেবনের সময়, নমুনা ধরার সময়, পরীক্ষার শনাক্ত সীমা এবং ব্যক্তির শারীরিক বৈশিষ্ট্য এই ফলাফলকে প্রভাবিত করে।
- 📌 মূত্রের নমুনা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলেও রক্ত, চুল বা নখের নমুনায় মাদক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শনাক্ত হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় ২০ আগস্ট রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পুলিশ ২২ আগস্ট রাতে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। দু’জন আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ২৩ আগস্ট ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাদের মূত্রের নমুনা নেওয়া হয় ৩০ আগস্ট — অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন পর। পরদিন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পায় নেগেটিভ ফলাফল।
বাংলাদেশের ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা, ২০২৬’ অনুসারে, ‘নেগেটিভ’ ফল মানে পরীক্ষার সময় মাদক বা তার বিপাকজাত পদার্থ শনাক্তযোগ্য মাত্রায় পাওয়া যায়নি। তবে এই ফলাফল দিয়ে মাদক সেবন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক সেবনের পর মূত্রে মেথামফেটামিন সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যে শনাক্ত হয়। তবে ব্যক্তির বিপাকক্রিয়া, মূত্রের অম্ল-ক্ষার মাত্রা এবং পরীক্ষাপদ্ধতির শনাক্ত সীমা এই সময়কে প্রভাবিত করতে পারে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ রাশিদুল হক বলেছেন, “১০ দিন পর মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করায় মেথামফেটামিন না পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এই ফলাফল দিয়ে ২০ আগস্ট রাতে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন কি না, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।”
"নমুনা সংগ্রহের সময়ের সাথে মাদকের শনাক্তকালের পার্থক্য এই ফলাফলের মূল কারণ। মাদক সেবনের পর মূত্রে মেথামফেটামিন সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যে শনাক্ত হয়। তবে ব্যক্তির শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও পরীক্ষার পদ্ধতি এই সময়কে প্রভাবিত করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর নগর, মাছুয়াপাড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিদ্ধার্থ দাস, মুগ্ধ দাস, গণপতি চক্রবর্তী, প্রীতিলতা চক্রবর্তী, আগামী চক্রবর্তী, আয়ুশ চক্রবর্তী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ আগস্ট (হত্যাকাণ্ড), ২২ আগস্ট (মরদেহ উদ্ধার), ২৩ আগস্ট (গ্রেপ্তার), ৩০ আগস্ট (নমুনা সংগ্রহ), ১০ দিন (পার্থক্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!