📌 হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে। মার্কিন ভোক্তারা পেট্রলের দামে ৭ সেন্টের বৃদ্ধি অনুভব করছেন।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচার প্রাইস ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি উঠে গেছে। গত পাঁচ দিনে তেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ এবং গত এক মাসে প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে — ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে
- 📌 গত শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়
- 📌 হরমুজ প্রণালি দিয়ে গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে
- 📌 মার্কিন ভোক্তাদের প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম সোমবার ৪ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পরিবার গড়ে জ্বালানিতে ৭৬৪ ডলার খরচ করেছে — স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪১৮ ডলার বেশি
📰 বিস্তারিত
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েই চলেছে। গত শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা অন্য এলাকায় তিনটি ট্যাংকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই হামলা-বিরোধী যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পেট্রলপাম্পে টের পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক পেট্রলের দাম পর্যবেক্ষণকারী আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৭ সেন্ট বেড়ে সোমবার ৪ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৪ দশমিক ৮০ ডলার। দাম বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জ্বালানিতে খরচ বাড়ছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি পরিবার গড়ে জ্বালানিতে ৭৬৪ ডলার খরচ করেছে। এটি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪১৮ ডলার বেশি।
তেলের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধের আগের পর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের দাম নেমে গিয়েছিল। এরপর আবার বেড়েছে, পরে কমেছে এবং এখন আবার হামলা ও আরামকোর স্থাপনায় হামলার কারণে বাড়ছে। জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্যাসিলভ গ্রুপের অংশীদার আরিফ গ্যাসিলভ আল–জাজিরাকে বলেছেন, ‘এটি কত দিন চলতে থাকে, তার ওপর নির্ভর করে একসময় বাজারে প্রভাব ফেলবে না। মাত্র এক বা দুই ডলার ওঠানামা করবে।’
"এটি চলমান সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার প্রতিফলন। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে এবং এ পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই।"
— র্যাচেল জিয়েম্বা, সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (সিএনএএস) অ্যাডজাঙ্ক্ট সিনিয়র ফেলো
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, মার্কিন বাহিনী, চট্টগ্রাম বন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ গ্যাসিলভ, র্যাচেল জিয়েম্বা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৭ ডলার (ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুড), ৯ শতাংশ (পাঁচ দিনে বৃদ্ধি), ১৯ শতাংশ (এক মাসে বৃদ্ধি), ৯২ দশমিক ২৭ ডলার (ডব্লিউটিআই ক্রুড), ৭ সেন্ট (পেট্রলের বৃদ্ধি), ৪ দশমিক ১৫ ডলার (পেট্রলের দাম), ৭৬৪ ডলার (পরিবারবিশেষে জ্বালানির খরচ), ৪১৮ ডলার (স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!