📌 গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিংটেইল লেমুর ভারতের গুজরাটে আম্বানির বন্য প্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প 'বনতারা'-তে পৌঁছেছে। পাচারের পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু প্রাণীদের বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করতে জটিলতা দেখা দিয়েছে
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির দুটি রিংটেইল লেমুর ভারতের গুজরাটে শীর্ষ ধনকুবের অনন্ত আম্বানির বন্য প্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প ‘বনতারা’তে পৌঁছেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে পাচারের বিস্তারিত উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে তিনটি রিংটেইল লেমুর চুরি হয়, এর মধ্যে দুটি ভারতের গুজরাটে আম্বানির ‘বনতারা’ প্রকল্পে পৌঁছেছে।
- 📌 চুরি হওয়া লেমুর দুটি প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে, কিন্তু তাদের মালিকানা নিশ্চিত করতে মাইক্রোচিপ বা ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
- 📌 পাচারের পেছনে নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহযোগিতায় জুয়েল নামের এক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। সীমান্ত লাইনম্যানের সহযোগিতায় দুটি লেমুর চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়।
- 📌 ভারতীয় ক্রেতারা কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু নামের দুই ব্যক্তির মাধ্যমে লেমুর দুটি কিনেছিলেন, যারা বাংলাদেশে দেলোয়ার ও তপন নামের দুই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।
- 📌 ২০১৮ সালে কাস্টমস থেকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে লেমুর দুটি দেশে আনা হয়েছিল, পরে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়। সেখানে থেকে চুরি করে পাচার করা হয়।
📰 বিস্তারিত
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর দুটি ভারতের গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত ‘বনতারা’ প্রকল্পে পৌঁছেছে। এই প্রকল্পটি ভারতের শীর্ষ শিল্প-বাণিজ্য গোষ্ঠী রিলায়েন্সের মালিকানাধীন, যেখানে সাড়ে তিন হাজার একর জমিতে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৫ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন।
সিআইডির তদন্তে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে সাফারি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি হয়। এর মধ্যে দুটি পরে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। এই ঘটনায় পরের দিন মামলা করে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তে জানা যায়, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহযোগিতায় জুয়েল নামের এক বন্য প্রাণী চোরাকারবারি লেমুরগুলো চুরি করেন। বস্তায় ভরে একটি বাড়িতে নিয়ে রাখা হয় প্রাণীগুলো। সেখান থেকে ভিডিও ধারণ করে ছবি ভারতীয় সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়।
একপর্যায়ে কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু নামের দুই ব্যক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজ করেন দেলোয়ার ও তপন নামের দুই ব্যক্তি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, একটি প্রাপ্তবয়স্ক লেমুর ও একটি শাবক ১৭ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। আরেকটি শাবকের দাম নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ টাকা। স্থানীয় এক সীমান্ত লাইনম্যানের সহযোগিতায় দুটি লেমুরকে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। এরপর একাধিক ব্যক্তির হাত ঘুরে প্রাণী দুটি গুজরাটের জামনগরে পৌঁছায়। পরে ভারতীয় ক্রেতারা সেগুলো ‘বনতারা’ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করেন।
"বনতারা’ প্রকল্পে লেমুর দুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বাংলাদেশের তদন্তকারীদের নজরে আসে বিষয়টি। ছবির সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুরের মিল পাওয়ার পর প্রাণী দুটি দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর সাফারি পার্ক (বাংলাদেশ), গুজরাটের জামনগর (ভারত), কলকাতা ও মুম্বাই (ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনন্ত আম্বানি, নরেন্দ্র মোদি, নিপেন মাহমুদ, জুয়েল, বাবলু, শিপলু, দেলোয়ার, তপন, পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা সুনীল দাশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮ লাখ রুপি (বিক্রি মূল্য), ১৭ লাখ টাকা (প্রাপ্তবয়স্ক লেমুরের দাম), ৩ লাখ টাকা (শাবকের দাম), ২৩ মার্চ ২০২৫ (চুরির তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!