📌 চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা মো. ইদ্রিষ ও তাঁর স্ত্রী ফখরে জাহান বেগমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে দুদকের এজাহারে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার সম্পদ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা মো. ইদ্রিষ ও তাঁর স্ত্রী ফখরে জাহান বেগমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপসহকারী পরিচালক মেরিন আক্তার বাদী হয়ে এই মামলা দুটি দায়ের করেছেন। প্রথম মামলায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রামের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট মো. ইদ্রিষকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় মামলায় মো. ইদ্রিষ ও তাঁর স্ত্রী ফখরে জাহান বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে দুদকের দুটি মামলায় সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা মো. ইদ্রিষ (৭৪) ও স্ত্রী ফখরে জাহান বেগম (৬৫) আসামি
- 📌 মো. ইদ্রিষের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা
- 📌 ফখরে জাহান বেগমের বিরুদ্ধে স্বামীর অবৈধ অর্থে নিজের নামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা
- 📌 মো. ইদ্রিষের ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার সম্পদ থেকে ৩৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে
- 📌 ফখরে জাহান বেগমের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত
- 📌 দুদকের এজাহারে মো. ইদ্রিষের বেতন, পেনশন, জমি বিক্রি ও ব্যাংক সুদসহ মোট গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা
📰 বিস্তারিত
দুদকের এজাহারে জানানো হয়েছে, মো. ইদ্রিষ ১৯৮১-৮২ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে মোট ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে তাঁর নামে ৩ লাখ টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ২৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, মো. ইদ্রিষের বেতন-ভাতা থেকে আয় ৪২ লাখ টাকা, কৃষি আয় ৫ লাখ টাকা, পেনশন আয় ৩১ লাখ টাকা, ব্যাংক ও জামানতের সুদ ২৬ লাখ টাকা এবং জমি বিক্রি থেকে আয় ৪৬ লাখ টাকা। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, মো. ইদ্রিষের গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। ব্যয় বাদে নিট আয় দাঁড়ায় ৯৬ লাখ টাকা। সম্পদের পরিমাণ থেকে নিট আয় বাদ দেওয়ার পর মো. ইদ্রিষের ৩৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় মামলায় ফখরে জাহান বেগমের নামে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকার স্থাবর ও ১৬ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, ফখরে জাহান বেগম ১৯৯৮-৯৯ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে মাত্র ৫৭ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তাঁর পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। অনুসন্ধানে তাঁর নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, মো. ইদ্রিষের অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থে স্ত্রীকে সহায়তা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মো. ইদ্রিষ ফেনীর ছাগলনাইয়ার বাসিন্দা, কিন্তু চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। দুদকের উপসহকারী পরিচালক মেরিন আক্তার জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
"মো. ইদ্রিষের বেতন-ভাতা থেকে আয় ৪২ লাখ টাকা, পেনশন আয় ৩১ লাখ টাকা, ব্যাংক ও জামানতের সুদ ২৬ লাখ টাকা এবং জমি বিক্রি থেকে আয় ৪৬ লাখ টাকা। এসবের পরও তাঁর সম্পদ ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা — এতে ৩৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (মেহেদীবাগ এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ইদ্রিষ (৭৪), ফখরে জাহান বেগম (৬৫), মেরিন আক্তার (দুদক কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা (মো. ইদ্রিষের সম্পদ), ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা (ফখরে জাহান বেগমের সম্পদ), ৩৬ লাখ টাকা (জ্ঞাত আয়বহির্ভূত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!