📌 বাজিতপুরে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়াত বিএনপি নেতা এ কে আমিনুল হকের পরিবার দাবি করে ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে
বাজিতপুরে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়াত বিএনপি নেতা এ কে আমিনুল হকের পরিবার জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠিত ‘লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম সুপার মার্কেটের’ ১৪ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মনির। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, জমির মালিকানা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাজিতপুরে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 প্রয়াত বিএনপি নেতা এ কে আমিনুল হকের পরিবার দাবি করে ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা।
- 📌 ২০২০ সালের ৮ মার্চ রাতে পরিবারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র লুট করা হয়।
- 📌 ২০২৪ সালের মার্চ মাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ‘রেজিয়া সুপার মার্কেট’ নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
- 📌 ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় জমির মালিকানার সাইনবোর্ড এবং হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার নোটিশ বোর্ড খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
- 📌 ১৯৯৩ সাল থেকে জমির মালিকানা ও দখল পরিবারের রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
- 📌 ২০২৩ সালে কিশোরগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
- 📌 হাইকোর্টের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাজিতপুর বাজারে শনিবার (৭ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত নেতা এ কে আমিনুল হকের স্ত্রী লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, তাঁর স্বামী সারা জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাজিতপুর বাজারের প্রাণকেন্দ্রে ‘আমিনুল হক সুপার মার্কেট’ এবং ‘লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম সুপার মার্কেট’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে বিগত সরকারের আমলে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষ মার্কেটটির ১৪ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালায়। লায়লা বেগমের অভিযোগ, জমির মালিকানা হস্তান্তরে রাজি না হওয়ায় ২০২০ সালের ৮ মার্চ রাতে পূর্ব বাজিতপুরে পরিবারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মার্কেটের মালিকানাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ওই জায়গায় ‘রেজিয়া সুপার মার্কেট’ নামে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
লায়লা বেগমের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান। তবে সর্বশেষ ৩ নভেম্বর সন্ধ্যার পর জমিটি পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাতের আঁধারে মার্কেটের প্রবেশপথে থাকা তাঁর মালিকানার সাইনবোর্ড এবং হাইকোর্টের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশসংক্রান্ত নোটিশ বোর্ড খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে সেখানে মনিরুজ্জামান মনিরের গংয়ের নামে জমির মালিকানা দাবি করে একটি ব্যানার টাঙানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৯৩ সাল থেকে ওই ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল পরিবারের রয়েছে। এ-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্রও পরিবারের কাছে সংরক্ষিত আছে। জমির মালিকানা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে ২০২৩ সালে কিশোরগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এ ছাড়া একই জমি নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা সিভিল রিভিশন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রয়েছে। লায়লা বেগম বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমি ও আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। আমি জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচার চাই।’
"জমির মালিকানা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে আমরা মামলা দায়ের করেছি। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম, মনিরুজ্জামান মনির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ শতাংশ জমি, ৭ নভেম্বর, ৮ মার্চ, ৩ নভেম্বর, ১৭ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!