📌 কিশোরগঞ্জের একটি দোকান ডাকাতির ঘটনায় ২০০০ সালে দুজনকে হত্যা করে ১৪ জনের মধ্যে একজন ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে ১০ বছরের সাজা পেয়ে কারাগারে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। আদালত তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে
২৬ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করলেও বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের বেঞ্চ জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে ২৬ বছর আগের (২০০০) একটি হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজা পেয়ে কারাগারে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
- 📌 ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের একটি দোকানে ডাকাতির সময় মোশাররফ হোসেন ও কবিরকে হত্যা করা হয় এবং সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করা হয়।
- 📌 আদালতে নুর মোহাম্মদ তার অসুস্থতা ও বয়সের কারণে জামিন চেয়েছিলেন, কিন্তু বিচারক জামিন প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
- 📌 মামলায় ১৪ জনের মধ্যে ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং নুর মোহাম্মদকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 নুর মোহাম্মদ ২০০৩ সালে রায়ের সময় পলাতক ছিলেন এবং পরে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চেয়েছিলেন।
📰 বিস্তারিত
২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের বড় বাজারের একটি দোকানে ডাকাতির সময় দুজন ব্যক্তি মোশাররফ হোসেন ও কবিরকে হত্যা করা হয়। ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় ঘোষণা করে। রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নুর মোহাম্মদকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়। আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি তার অসুস্থতা ও বয়সের কারণে জামিন চেয়েছিলেন। তার পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ শুনানিতে বলেন, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। তবে আদালত তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
"আমি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছি এবং আপিলের শর্তে জামিন চাইছি। আমার বয়স ১০৪ বছর এবং আমি অসুস্থ।" — অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪, কিশোরগঞ্জের বড় বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুর মোহাম্মদ, বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন, অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৪ বছর (বয়স), ১০ বছর (সাজা), ২৬ বছর (মামলার পুরনো), ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ (লুট করা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!