📌 হরমুজ প্রণালি অবরোধ ও যুদ্ধের ধাক্কা সামলেও ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি। কেন্দ্রীভূত অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণই এর প্রধান কারণ। তবে সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব মারাত্মক।
গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকলেও ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি। যুদ্ধ শুরুর আগে দৈনিক ৬৫ কোটি ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদিত হতো, যা এখন কমে প্রায় ২৩ কোটি ঘনমিটারে দাঁড়িয়েছে। পেট্রলের সরবরাহও যুদ্ধের আগে থেকেই চাহিদার তুলনায় দুই কোটি লিটার কম ছিল। শহরগুলোতে বিদ্যুতের রেশনিং চলছে। সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার মাত্র ৭ শতাংশ। বেতন ও পেনশন দেওয়া হচ্ছে, দোকানে পণ্যের সরবরাহ আছে। ব্যাংকিং খাতেও কোনো বড় সংকট দেখা যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুদ্ধের কারণে ইরানের গ্যাস উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৩ কোটি ঘনমিটার
- 📌 যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই পেট্রলের সরবরাহ ছিল চাহিদার তুলনায় দুই কোটি লিটার কম
- 📌 শহরগুলোতে বিদ্যুতের রেশনিং চলছে, সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার ৭ শতাংশ
- 📌 যুদ্ধের সময়েও ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার কারণে
- 📌 ইরানের অর্থনীতি কেন্দ্রীভূত মালিকানা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে সক্ষম হয়েছে
📰 বিস্তারিত
যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়ার কথা থাকলেও তা ঘটেনি। এর প্রধান কারণ হলো ইরানের অর্থনীতির কেন্দ্রীভূত কাঠামো। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই পেট্রলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় দুই কোটি লিটার কম ছিল। যুদ্ধের কারণে গ্যাস উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৩ কোটি ঘনমিটার। শহরগুলোতে বিদ্যুতের রেশনিং চলছে। সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার মাত্র ৭ শতাংশ। বেতন ও পেনশন দেওয়া হচ্ছে, দোকানে পণ্যের সরবরাহ আছে। ব্যাংকিং খাতেও কোনো বড় সংকট দেখা যায়নি।
ইরানের অর্থনীতি যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে পারার কারণ হলো এর কেন্দ্রীভূত মালিকানা ব্যবস্থা। বৈদেশিক মুদ্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত। রপ্তানি অর্থনীতির বড় অংশ কয়েকটি আধা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। দেশটির বৈদেশিক ঋণ খুবই কম এবং বিদেশিদের শেয়ারবাজারভিত্তিক বিনিয়োগও নগণ্য।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর তেহরান শেয়ারবাজার বন্ধ করে দেয়। প্রায় ৮০ দিন পর মে মাসে বাজার খোলা হলে টেডপিক্স সূচক যুদ্ধের পঞ্চম মাসে ৫৯ লাখ পয়েন্ট ছাড়িয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে যায়। তবে এটি প্রকৃত আস্থার প্রতিফলন নয়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় ব্যাংকে আমানতের সুদের হার কম থাকায় ইরানি সঞ্চয়কারীদের বিনিয়োগের বিকল্প কম।
"ইরানের মতো নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। দোকানে পণ্য থাকে, কিন্তু মানুষের পক্ষে সেগুলো কেনা ক্রমেই কঠিন হয়ে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: হাদি কাহালজাদেহ (অর্থনীতিবিদ, কুইন্সি ইনস্টিটিউট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ শতাংশ (বেকারত্বের হার), ২৩ কোটি ঘনমিটার (গ্যাস উৎপাদন হ্রাস), ৫৯ লাখ পয়েন্ট (টেডপিক্স সূচক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!