📌 সিরিয়ার যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেশটির আদালত সাবেক শাসক পরিবারের সদস্য ওয়াসিম আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। একই মামলায় তার চাচা বাশার আল-আসাদ, ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে ওয়াসিম আল-আসাদ পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটির দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক শাসক পরিবারের সদস্য ওয়াসিম আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। গত মঙ্গলবার প্রদত্ত এই রায় ঘোষণার এক সপ্তাহ আগেই দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরিয়ার যুদ্ধাপরাধ মামলায় ওয়াসিম আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
- 📌 একই মামলায় বাশার আল-আসাদ, মাহের আল-আসাদ ও আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
- 📌 ওয়াসিম আল-আসাদ পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত।
- 📌 পূর্ব গৌটা অঞ্চলের আল-মলেইহা শহরে বেসামরিক এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
- 📌 আদালত ওয়াসিম আল-আসাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক শাসক পরিবারের সদস্য ওয়াসিম আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। গত মঙ্গলবার প্রদত্ত এই রায় ঘোষণার এক সপ্তাহ আগেই দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ওয়াসিম আল-আসাদ, ৪৬, সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ার বাসিন্দা। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজধানী দামেস্কে বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রসর হওয়ার পর বাশার আল-আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা মস্কোয় পালিয়ে যান। তারা সেখানে রাশিয়ার কড়া নজরদারিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে ওয়াসিম আল-আসাদ পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান বলেন, ওয়াসিম আল-আসাদ একাধিক হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে যে তার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র দল সিরিয়ার নাগরিকদের অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।
২০২৫ সালের জুন মাসে লেবানন থেকে প্রত্যাবর্তনের পর গ্রেপ্তার হওয়া ওয়াসিম আল-আসাদ দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সাবেক শাসনামলে ক্যাপ্টাগন নামক মাদক উৎপাদন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখোমুখি ছিলেন। তবে আদালত তাকে মাদক পাচারের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে, কারণ তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো।
"খুন নির্যাতন ও নৃশংসতার সঙ্গে সংঘটিত হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।"
একই মামলায় ১১ আগস্ট চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদ, মাহের আল-আসাদ এবং আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। আদালতের বাইরে উপস্থিত জনতা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও আল-আসাদ ভ্রাতৃদ্বয়কে অনুপস্থিতিতে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে আতেফ নাজিবকে গত জানুয়ারি থেকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। তাকে দশটিরও বেশি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হত্যা, নির্যাতন, গণহত্যা পরিচালনা এবং দেরা অঞ্চলের গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। যুদ্ধের পূর্ববর্তী জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
"দেশটি গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আল-আসাদ পরিবারের নেতৃত্বাধীন পাঁচ দশকের স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে পুনর্মিলনের চেষ্টা করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দামেস্ক, সিরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াসিম আল-আসাদ, বাশার আল-আসাদ, মাহের আল-আসাদ, আতেফ নাজিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর, ৫ লক্ষ, ১ কোটি ৩০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ, ১০টি অপরাধ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!