📌 গাদ্দাফির পতনের পর দেড় দশকে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ত্রিপোলির জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার ও পূর্বাঞ্চলের স্বঘোষিত সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন
লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরুর ১৫ বছর পর দেশটিকে একত্রীকরণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। দীর্ঘ এক দশকের গৃহযুদ্ধের পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লিবিয়ায় গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময়
- 📌 দেশটির নিয়ন্ত্রণ এখন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের মধ্যে বিভক্ত: ত্রিপোলির জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার ও পূর্বাঞ্চলের স্বঘোষিত সরকার
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র নতুন ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে ত্রিপোলির সরকার প্রধান আবদুল হামিদ দেহিবাহ প্রধান থাকবেন এবং সাদ্দাম হাফতারের নেতৃত্বে পূর্বাঞ্চলীয় সরকারের অংশগ্রহণ থাকবে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তেলক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে
- 📌 লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছে
📰 বিস্তারিত
২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের বেনগাজি শহরে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘ চার দশকের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বিদ্রোহ সহিংসতায় রূপ নেয়, যার ফলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে গাদ্দাফির সেনাবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং বিদ্রোহীরা ভূখণ্ড দখল করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের অক্টোবরে গাদ্দাফি ধরা পড়েন এবং নিহত হন।
গাদ্দাফির পতনের পর দেশটিতে ক্ষমতার শূন্যতা দেখা দেয়। একাধিক দল ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়ারা ক্ষমতার জন্য লড়াই শুরু করে। বর্তমানে লিবিয়া দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: ত্রিপোলির জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার প্রধান আবদুল হামিদ দেহিবাহের নেতৃত্বে এবং পূর্বাঞ্চলের স্বঘোষিত সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন খলিফা হাফতার ও তার স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ)।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২০ সাল থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের সমর্থিত এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দুই সরকারকে একত্রীকরণ, প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন এবং জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২১ সালের মে মাসে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প রিচার্ড নরল্যান্ডকে লিবিয়ার বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন, যিনি দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পরিচালনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই সরকার একত্রিত হলে দেশটির তেলক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছে। যদিও ত্রিপোলির সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, পূর্বাঞ্চলের সরকার তেলক্ষেত্র ও টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে দেহিবাহ সরকার প্রধান থাকবেন এবং খলিফা হাফতারের পুত্র সাদ্দাম হাফতার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
"জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়ার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এবং জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটিকে একত্রীকরণের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লিবিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল হামিদ দেহিবাহ, খলিফা হাফতার, সাদ্দাম হাফতার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!